জাহিদ হাসান,লামা(বান্দরবান) প্রতিনিধি।।
বান্দরবান জেলার লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওকে পুঁজি করে সংঘবদ্ধ একটি চক্র পরিকল্পিত অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় প্রশাসন ও একাধিক সূত্রের দাবি, অবৈধ কর্মকাণ্ডে বাধা পাওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল লামা উপজেলা প্রশাসনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।সরকারি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও ভুক্তভোগীদের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত চক্রটি চাঁদাবাজি, সাধারণ মানুষকে হয়রানি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে অর্থ আদায় এবং ফাঁদে ফেলে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার মতো বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের সঙ্গে জড়িত। প্রশাসনের কঠোর অভিযানে সুবিধা না পাওয়ায় তারা অপপ্রচারে নেমেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।সম্প্রতি মো. মামুন নামের এক ব্যক্তি নিজেকে ফাইতং ইউনিয়নের রাইম্যাখোলা ইউএমবি ইটভাটার মালিক দাবি করে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন, যা ফেসবুকে দ্রুত ভাইরাল হয়। ভিডিওতে পরিবেশ অধিদপ্তরের যৌথ অভিযান, সেনাবাহিনী, র্যাব, বিজিবি, পুলিশ, কক্সবাজারের পুলিশ সুপার, লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং কয়েকজন সাংবাদিকের নাম উল্লেখ করে বক্তব্য দেওয়া হয়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পরপরই মো. মামুন আরেকটি ভিডিও বার্তায় দাবি করেন, তিনি প্রতারণার শিকার হয়েছেন।মো. মামুন জানান, একটি ঘরোয়া পরিবেশে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে গল্পচ্ছলে কথা বলার সময় তার বক্তব্য ধারণ করা হয়। পরে এ-আই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তা বিকৃতভাবে সম্পাদনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এই অপপ্রচারের মাধ্যমে তাকে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান, তিনি ইউএমবি ইটভাটার মালিক নন এবং লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন কিংবা অফিস সহায়ক মো. সোহেলের কাছে কখনো কোনো অর্থ প্রদান করেননি।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, মো. মঈন উদ্দিন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, পাহাড় কাটা, পরিবেশ ধ্বংস করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটা স্থাপনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করেন। এসব অভিযানে জরিমানা ও কারাদণ্ড প্রদানসহ তিন কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় করা হয় এবং অন্তত সাতটি অবৈধ ইটভাটা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি চক্র অবৈধ কাজে জড়িতদের সঙ্গে সিন্ডিকেট করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত হয় বলে অভিযোগ।
অভিযুক্ত চক্রটি একজন ব্যক্তিকে ইটভাটার মালিক সাজিয়ে এ-আই প্রযুক্তির মাধ্যমে বক্তব্য বিকৃত করে ইউএনও মো. মঈন উদ্দিন ও অফিস সহায়ক সোহেলকে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলেও দাবি করা হয়।এ বিষয়ে সচেতন মহল ইউএনওর সাহসী ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, জনস্বার্থে কাজ করতে গেলে বাধা ও ষড়যন্ত্র আসতেই পারে। এসব চাপে নত না হয়ে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
অফিস সহকারী মো. সোহেল বলেন, সুবিধা না পেয়ে একটি চক্র পরিকল্পিত অপপ্রচার চালিয়ে তাকে ও ইউএনওকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে।
বান্দরবান জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্র জানায়, মহামান্য হাইকোর্টের রিট পিটিশন নং ১৩১৯১/২২ অনুযায়ী ইউএমবি ইটভাটার মালিক মকছুদ আহাম্মদ। ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি মোক্তার আহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের সংঘাতে জড়ানোর উদ্দেশ্যে একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে ইটভাটা মালিকদের অনৈতিক সম্পর্ক নেই বলেও তিনি দাবি করেন।লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন বলেন, কোনো ইটভাটা মালিকের সঙ্গে তার অনৈতিক লেনদেনের প্রশ্নই ওঠে না। তিনি বলেন, যদি এমন কিছু থাকত, তাহলে একের পর এক জরিমানা, কারাদণ্ড ও ইটভাটা ধ্বংসের অভিযান পরিচালনা করা হতো না। অবৈধ ইটভাটা বন্ধে মোবাইল কোর্টসহ প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।এ বিষয়ে বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন, যতই ষড়যন্ত্র করা হোক না কেন, জনস্বার্থ ও পরিবেশ রক্ষায় অবৈধ ইটভাটা, অবৈধ বালু উত্তোলনসহ সব ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে।