মোঃ ইমরান হোসেন হৃদয় শার্শা(যশোর)প্রতিনিধি:
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার হরিহরনগর ইউনিয়নের ডুমুরখালি গ্রামের সন্তান, প্রবাসী জিয়াউর রহমান নিজস্ব অর্থায়নে কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করে এলাকায় মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
এই সেতু নির্মাণের ফলে ঝিকরগাছা ও মনিরামপুর উপজেলার বাঁকড়া এবং হরিহরনগর ইউনিয়নের একাধিক গ্রামের মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত সমস্যার অবসান ঘটেছে। বিশেষ করে বাঁকড়া ইউনিয়নের উজ্জলপুর গ্রামের বাসিন্দারা ব্রিটিশ আমল থেকেই ডুমুরখালি হাটে কেনাকাটার জন্য যাতায়াত করতেন। নদীর দুই পাড়ে পাশাপাশি অবস্থিত হওয়ায় মানুষের চলাচল যুগ যুগ ধরে চলে এলেও এতদিন তা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ।
এলাকাবাসী ও শিক্ষার্থীরা বাজার, স্কুল ও মাদ্রাসায় যাতায়াতের জন্য দীর্ঘদিন ধরে খেয়াপারাপারের ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। বর্ষা মৌসুমে কিংবা প্রতিকূল আবহাওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো তাদের। সেই ভোগান্তি লাঘবে এগিয়ে আসেন প্রবাসী জিয়াউর রহমান। নিজের অর্থায়নে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাঁশ ও কাঠ দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করে দেন তিনি।
এই মহতী উদ্যোগের জন্য এলাকাজুড়ে জিয়াউর রহমান প্রশংসায় ভাসছেন। গত ১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে সেতুটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হরিহরনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক বিশ্বাস, সাবেক চেয়ারম্যান ও বিএনপি নেতা, বাঁকড়া ডিগ্রি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ গাজী আব্দুস সাত্তার, স্থানীয় জামায়াত নেতা আবুবকর সিদ্দিক, বাঁকড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার আনিসুর রহমান, বাঁকড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জামির হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ।
উদ্বোধন উপলক্ষে পুরো এলাকা যেন এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন কনটেন্ট ক্রিয়েটরের মাধ্যমে সেতুটির ভিডিও ও ছবি ভাইরাল হওয়ায় দূরদূরান্ত থেকেও মানুষ সেতুটি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের এমন উদ্যোগ গ্রামীণ উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।###