সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মতে, দেবী সরস্বতী সত্য, ন্যায় ও জ্ঞানালোকের প্রতীক। তিনি বিদ্যা, বাণী ও সুরের অধিষ্ঠাত্রী।
‘সরস্বতী মহাভাগে বিদ্যে কমললোচনে,
বিশ্বরূপে বিশালাক্ষী বিদ্যাং দেহি নমোহস্তুতে’—
এই মন্ত্র উচ্চারণ করে বিদ্যা ও জ্ঞান অর্জনের জন্য সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী সরস্বতীর অর্চনা করবেন।
সরস্বতী পূজা উপলক্ষে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন।
পূজা উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। জগন্নাথ হলকে ঘিরে রয়েছে বিশেষ আয়োজন। এ বছর জগন্নাথ হল প্রশাসনের কেন্দ্রীয় পূজাসহ মোট ৭৬টি মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৪টি বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীরা এই পুণ্য আয়োজনে অংশগ্রহণ করবেন। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে থাকবে পুষ্পাঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ বিতরণ, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও রক্তদান কর্মসূচি। এ ছাড়া হলের অভ্যন্তরে দর্শনার্থী শিশু-কিশোরদের চিত্তবিনোদনের জন্য বিভিন্ন রাইড, খেলনা এবং বিশুদ্ধ খাবারের দোকানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জগন্নাথ হলের প্রাধ্যক্ষ দেবাশীষ পাল বাসসকে এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন ও শিক্ষা), কোষাধ্যক্ষ ও প্রক্টরের সার্বক্ষণিক ও কার্যকর তত্ত্বাবধানে জগন্নাথ হল প্রশাসন কেন্দ্রীয় পূজামণ্ডপসহ সমগ্র হল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ কাজে প্রয়োজনীয় লোকবল ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে পাশে রয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই), শাহবাগ থানা ও ফায়ার সার্ভিস।
এ ছাড়াও ঢাকা রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, শাঁখারীবাজার, তাঁতীবাজার, বনানী ও রমনা কালী মন্দিরসহ বিভিন্ন মণ্ডপে সরস্বতী পূজার আয়োজন করা হবে। সেখানে সন্ধ্যা আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এই পূজাকে ঘিরে ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠবে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ।