দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন করে ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এ রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যাচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তা জটিল আকার ধারণ করে নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ফলে হাসপাতালগুলোতে শিশু রোগীর চাপও বাড়ছে। অনেক সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা দিতে গিয়ে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।চকরিয়াতে সংক্রামক রোগ হাম (মিজলস)-এর প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এ গিয়ে দেখা যায় হামের উপসর্গ নিয়ে অন্তত ৩ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জায়নুল আবেদীন ভোরের কণ্ঠকে জানান, হাম রোগে আক্রান্ত হয়ে আজ ২ জন শিশু ভর্তি রয়েছে। পূর্বের ছিল ৬ জন। এর মধ্যে ৫ জন চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।সন্দেহজনক ১৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আক্রান্তই সবাই শিশু।
এদিকে কক্সবাজার জেলায় ছোঁয়াচে রোগ হাম আক্রান্ত হয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় হামে মোট তিন শিশুর মৃত্যু হলো। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের ডেডিকেটেড হাম ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই শিশুর মৃত্যু হয়।মৃত শিশুটি ৯ মাস বয়সী জেসিন, সে মহেশখালীর ছোট মহেশখালী এলাকার বাসিন্দা নাসিরের কন্যা। এর আগের দিন একই উপজেলার ৭ মাস বয়সী হিরা মনি নামের আরেক শিশুর মৃত্যু হয়। এছাড়া আরও একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তবে তার পরিচয় ও মৃত্যুর সময় সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যায়নি।কক্সবাজার সদর হাসপাতালের শিশু স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. শহিদুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সর্বশেষ মৃত শিশুটি হাম ছাড়াও অন্যান্য রোগে ভুগছিল। তিনি বলেন, “এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে অন্তত একজন নিউমোনিয়াসহ অন্যান্য জটিলতায় আক্রান্ত ছিল।”
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের হাম ওয়ার্ডে বর্তমানে ৪২ শিশু ভর্তি রয়েছে। এছাড়া কক্সবাজার জেনারেল হাসপাতালে আরও ৫ শিশু চিকিৎসাধীন আছে। সব মিলিয়ে দুই হাসপাতালে ভর্তি শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৭ জনে।
কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মহিউদ্দীন মোহাম্মদ আলমগীর জানান, জেলার মহেশখালী, হোয়াইক্যং, রামুর মিঠাছড়ি, শহরের কালুরদোকান, পাহাড়তলি ও রুমালিয়ারছড়া এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি দেখা যাচ্ছে।তিনি আরও বলেন, “হাম প্রতিরোধে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। কক্সবাজারে প্রায় ৯৫ শতাংশ শিশু টিকার আওতায় এসেছে এবং টিকার পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে।পাশাপাশি ঘরে ঘরে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।”