চকরিয়া কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার তিনজন পেশাদার সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়ে হত্যা চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামি উত্তর হারবাং ইছাছড়ি এলাকার আলোচিত বালুদুস্যু সন্ত্রাসী নাজিম উদ্দীনকে দুইদিনের পুলিশ রিমান্ডে দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২২ জুলাই) চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক মুহাম্মদ ফারহান সাদিক মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও চকরিয়া থানার এসআই (উপপরিদর্শক) ফরিদ হোসেন মামলার আসামি নাজিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে গত ২ জুলাই তারিখে ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানান আদালতের কাছে। রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের এডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন। তিনি ছাড়াও আদালতে সাংবাদিকদের পক্ষে রিমান্ড শুনানীতে ছিলেন চকরিয়া এডভোকেট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি এডভোকেট লুৎফুল কবির, সাবেক সাধারন সম্পাদক এডভোকেট মঈন উদ্দিন এবং আরও একাধিক সিনিয়র আইনজীবী। এডভোকেট মিজবাহ উদ্দীন জানিয়েছেন, রিমান্ড শুনানির জন্য মামলার এক নম্বর আসামি নাজিম উদ্দীনকে বুধবার সকালে কক্সবাজার জেলা কারাগার থেকে চকরিয়া উপজেলা সিনিয়র জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। জানা যায়, চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাং ইছাছড়ি ছড়াখাল থেকে এবং পাশে কৃষি জমি কেটে সেলো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে পরিবেশ বিধংসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিলেন বালুদস্যু নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী বাহিনী। খবর পেয়ে চলতিবছরের ২২ ফেব্রুয়ারী বিকালে চকরিয়া উপজেলার তিনজন পেশাদার সাংবাদিক যথাক্রমে দৈনিক কালেরকণ্ঠ, আজাদীর প্রতিনিধি ছোটন কান্তি নাথ, দৈনিক সংবাদ, সুপ্রভাত, একুশে পত্রিকা, নতুন বাংলাদেশের প্রতিনিধি এম জিয়াবুল হক ও দৈনিক আমারদেশ, পুর্বদেশ পত্রিকার প্রতিনিধি একেএম ইকবাল ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিবেশ বিধংসী কর্মকাণ্ডের ছবি এবং ভিডিও চিত্র ধারণ করছিলেন। এসময় সেখানে উপস্থিত হয়ে বালুদুস্য নাজিম উদ্দীন তাঁর সহযোগী সন্ত্রাসীদের নিয়ে ঘটনাস্থলে তাঁদের ঘিরে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু হয়। এ সময় সাংবাদিক ছোটন ও জিয়াবুলকে মারতে মারতে ছড়ার পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। এতে ছোটনের মাথা ফেটে যায় এবং জিয়াবুলের ডান হাতের বাহুর হাড় ভেঙে যায়। ইকবাল ফারুকের ডান হাতে কোপ দিলে হাতের তালু কেটে যায়। বর্তমানে গুরুতর আহত সাংবাদিক জিয়াবুলের হাতের অবস্থা আশঙ্কাজনক। চিকিৎসকের পরামর্শে পুনরায় অপারেশনের জন্য তাঁকে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। এ ঘটনায় দুইদিন পর ২৫ ফেব্রুয়ারী সাংবাদিক একেএম ইকবাল ফারুক বাদি হয়ে বালুদুস্য নাজিম উদ্দীনকে এক নম্বর আসামি করে চকরিয়া থানায় ১১ জনের নামোল্লেখ করে একটি মামলা রুজু করেন। মামলায় আরও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়। ওই মামলায় ১ নম্বর আসামি নাজিম উদ্দীন, ২ নম্বর আসামি সাহাব উদ্দিন, ৩ নম্বর আসামি নুরুল আলম হাইকোর্ট থেকে ৬ সপ্তাহের জামিন নিয়ে মেয়াদ শেষে কক্সবাজারের চিপ জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে স্থায়ী জামিনের জন্য আবেদন করেন। গত ৩০ জুন জামিন শুনানিতে কক্সবাজারের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইরফানুল হক চৌধুরী ১ নম্বর আসামি বালুদস্যু নাজিমকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অপর দুইজনকে মামলার অভিযোগপত্র (চার্জসীট) দেওয়া পর্যন্ত জামিন দেন। ##