আকতার মিয়া, মহেশখালী, কক্সবাজার।
কক্সবাজারের মহেশখালীতে সরকারের সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় দীর্ঘদিন ধরে বনজ সম্পদ সংরক্ষণ, পরিচর্যা ও ব্যবস্থাপনায় অংশ নেওয়া ৩৬ জন উপকারভোগীর মাঝে লভ্যাংশের চেক বিতরণ করা হয়েছে।
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, বনজ সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং স্থানীয় জনগণকে অর্থনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এ কর্মসূচির আওতায় শনিবার (২৫ জুলাই) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপকারভোগীদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজ উল্লাহ ফরিদ। তিনি সরকার নির্ধারিত নীতিমালা ও চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সামাজিক বনায়নের আওতায় গাছের পরিচর্যা, সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালনকারী উপকারভোগীদের হাতে লভ্যাংশের চেক তুলে দেন। উপকারভোগীদের মধ্যে ৫ জন নারী এবং ৩১ জন পুরুষ রয়েছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমপি ফরিদ বলেন, সামাজিক বনায়ন কেবল বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলা এবং স্থানীয় জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের একটি কার্যকর রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ। বনজ সম্পদ সংরক্ষণে জনগণের প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, উপকূলীয় উপজেলা মহেশখালী জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, লবণাক্ততা বৃদ্ধি এবং উপকূলীয় ভূমি ক্ষয়ের মতো নানা ঝুঁকির মুখোমুখি। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সামাজিক বনায়নের গুরুত্ব অপরিসীম। তাই প্রতিটি গাছকে জাতীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে সংরক্ষণে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
এমপি আরও বলেন, সরকার পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি বনজ সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। সামাজিক বনায়নের লভ্যাংশ বিতরণ সেই রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারেরই বাস্তব প্রতিফলন।
বক্তারা বলেন, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন বনভূমির পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের আয় বাড়ছে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে সচেতনতা সৃষ্টি হচ্ছে। বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল বাংলাদেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
উপকারভোগীরা জানান, সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যক্ষভাবে অবদান রাখার সুযোগ পেয়েছেন। সরকারের এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও জনকল্যাণমূলক উল্লেখ করে তারা ভবিষ্যতেও বন সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ এবং বনজ সম্পদ রক্ষায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে বন বিভাগের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণ্যমান্য ব্যক্তি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে বন সংরক্ষণে জনসম্পৃক্ততা আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়।
উল্লেখ্য, সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় জনগণ নির্দিষ্ট সময় ধরে বৃক্ষরোপণ, পরিচর্যা ও সংরক্ষণ কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। মেয়াদ শেষে সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী কাঠ ও বনজ সম্পদ বিক্রির লভ্যাংশ অংশগ্রহণকারী উপকারভোগীদের মধ্যে বণ্টন করা হয়। এর মাধ্যমে একদিকে বনজ সম্পদ বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে স্থানীয় জনগণের আয় ও জীবিকায় ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি হয়।