চকরিয়া মাতামুহুরী সেতু সংলগ্ন এলাকায় রাতের আঁধারে শ্যালো মেশিন বসিয়ে এবং চর কেটে অবাধে বালু উত্তোলন করছে প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট। বছরের পর বছর চলা এই অবৈধ কর্মকাণ্ডে নদীর গতিপথ বদলে গিয়ে ভয়াবহ নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, মানুষের বাড়িঘর। ঝুঁকির মুখে পড়েছে নদীপাড়ের জনপদ, আর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে প্রায় ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত মাতামুহুরী সেতুর নিরাপত্তা নিয়েও।
আজ শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, মাতামুহুরী নদীটি চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়ন থেকে শুরু হয়ে সুরাজপুর মানিকপুর, কাকারা, চকরিয়া পৌরসভা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিল ও মাতামুহুরী উপজেলার বিএমচর, কোনাখালী ইউনিয়নের পাশ দিয়ে এবং অপর অংশে সাহারবিল, পশ্চিম বড় ভেওলা ও বদরখালী হয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় মিলিত হয়েছে। বিশাল আয়তনের মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন এলাকায় নদীর তীরে জেগে উঠেছে অসংখ্য চর।চট্টগ্রাম কক্সবাজার মহাসড়কের মাতামুহুরী সেতুর নীচে ও দক্ষিণ পাশে জেগেউঠা চর কেটে এবং নদীতে শ্যালো মেশিন বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর ওপারে হাজিয়ান অংশে কমপক্ষে দেড় কিলোমিটার এলাকার ফসলি জমি ভাঙ্গনের কবলে পড়ে ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ওই এলাকায় নদীভাঙ্গন এতটাই বেড়েছে যেকোনো মুহূর্তে আশপাশের বিপুল জনবসতি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার আশংকার পাশাপাশি হুমকির মুখে পড়েছে সরকারের ৩৫৬ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত মাতামুহুরী সেতুর তলদেশ।
চকরিয়া পৌরসভা পূর্ব কোচ পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা নুরুল ইসলাম ভোরের কণ্ঠকে জানান, সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে বন্যা আসার সাথে সাথে চকরিয়া পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড পূর্ব কোচ পাড়া নদীর লাগোয়া আমার বাড়ি হওয়ায় পানির ধাক্কায় আমার বাড়িসহ ৪-৫ টি বাড়ি তলিয়ে যায়। জীবন যাপন করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অন্যদিকে তার বিপরীত চর নদীতে ড্রেজার ও শ্যালো মেশিন বসিয়ে এবং জেগেউঠা চর দখল করে অবৈধ বালু উত্তোলন করে যাচ্ছে বালি খেকোরা। এস্থানে প্রশাসনের বৈধ অনুমতি না থাকলেও শুধুমাত্র পেশিশক্তির দাপট দেখিয়ে কিছু লোক দীর্ঘ কয়েকবছর ধরে জেগেউঠা চর কেটে ও মাতামুহুরী নদী থেকে অবৈধভাবে বালু লুটের মহোৎসব চালাচ্ছে। আবার উত্তোলন করা এসব বালু প্রতিরাতে কমপক্ষে ৩০/৪০টি ডাম্পার ট্রাকে পরিবহন করার ফলে ওই এলাকার সড়কপথ চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর তীর ও বাড়িঘর রক্ষার জন্য প্রসাশনের সহযোগিতা কামনা করছি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, "জেলা প্রশাসনের ইজারা দেওয়া মহাল ছাড়া অন্য যে কোন স্থান থেকে বালু উত্তোলন করা আইনত অবৈধ। সাম্প্রতিক সময়ের বন্যার পর চিরিঙ্গা মাতামুহুরী সেতুর নীচ থেকে বালু উত্তোলনের খবর পেয়ে কয়েকদিন আগে সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি শ্যালো মেশিন জব্দ করে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারিতে রয়েছে। সেখানে একদিন পর পর রাতের বেলায় আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জড়িতরা যতই ক্ষমতাধর হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।