অতিথিরা বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও অর্থনৈতিক বিকাশের সঙ্গে নদীর সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। দেশের কৃষি উৎপাদন, নৌপরিবহন, মৎস্যসম্পদ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবন নদীকেন্দ্রিক।একসময় দেশের নদীপথ ছিলো যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এখনো দেশের বহু অঞ্চলের মানুষ নদীপথের ওপর নির্ভরশীল। তবে ক্রমবর্ধমান দখল, দূষণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণ, শিল্পবর্জ্য ও পলিথিন ফেলার কারণে দেশের বহু নদী আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।




ছবি: দিবসটি সম্পর্কে অতিথিদের আলোচনা।
পরিবেশবিদদের মতে, নদী শুধু পানির উৎস নয়, এটি একটি জীবন্ত প্রতিবেশ ব্যবস্থা। নদী বাঁচলে কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ রক্ষা পাবে।অন্যদিকে, নদী ধ্বংস হলে জলাবদ্ধতা, বন্যা, খরা, পরিবেশ দূষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে।সরকার এরই মধ্যে নদী রক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। দেশের নদীগুলোর সীমানা নির্ধারণ, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে খনন কার্যক্রম এবং নদীদূষণ নিয়ন্ত্রণে নানা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।নদী কমিশনসহ বিভিন্ন সংস্থা এ বিষয়ে কাজ করছে। তবে নদী রক্ষায় আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কার্যকর তদারকি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।শিক্ষাবিদ ও গবেষকরাও নদীভিত্তিক শিক্ষা ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন। তারা বলছেন, নতুন প্রজন্মকে নদীর গুরুত্ব সম্পর্কে জানাতে হবে। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে কার্যক্রম বাড়ানো প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী শুধু বাংলাদেশের ভৌগোলিক পরিচয়ের অংশ নয়, এটি দেশের প্রাণ। নদীকে বাঁচাতে পারলে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবন-জীবিকাও সুরক্ষিত থাকবে।




ছবি: রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা।
এসময় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন,ইছাক আহমদ ফাউন্ডেশন চকরিয়া চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া,মজিদিয়া দারুচ্ছুন্নাহ্ পৌর আলিম মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক মৌলানা আবু মুছা, চকরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম খোকন,ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়ন মাইগ্রেশন ফোরামের সভাপতি মো: হেলাল উদ্দিন, দৈনিক ভোরের কণ্ঠ এর সম্পাদক ও প্রকাশক মাস্টার আরাফাত চৌধুরী(বিএসসি), রাইজিং স্টার ফাউন্ডেশনের সাবেক সভাপতি মো: রাইহান ও সা: সম্পাদক মো: পারভেজ, মাদ্রাসার শিক্ষক বোরহান উদ্দিন প্রমুখ।
আলোচনা শেষে মাদ্রাসা সড়ক প্রদক্ষিণ করে মাতামুহুরি বেড়িবাঁধে র্যালী অনুষ্ঠিত হয়। রচনা প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণকারী ১ম, ২য়,৩য় অর্জন কারীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে দিবসটি সমাপ্তি ঘটে।



