কক্সবাজারের চকরিয়ায় জমি দখল, বসতবাড়িতে হামলা ও তাঁর মায়ের ওপর হামলার অভিযোগ তুলে সাবেক কমিশনার নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন কলেজছাত্র মোহাম্মদ আরমান । ওই মামলা থেকে বাঁচতে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ব্যক্তিকে ভুক্তভোগী সাজিয়ে তাঁকে মারধরের অভিযোগে আরমান ও তাঁর স্বজনদের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন তিনি । তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত নুরুল আমিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি । মোহাম্মদ আরমানের অভিযোগ, গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে ১৫০ থেকে ২০০ জনের একটি দল হেলমেট পরে অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে হামলা চালায় । এ সময় সুপ্রিম কোর্টে স্থগিত থাকা ২০০৭ সালের ২২১৯ নম্বর দলিল দেখিয়ে বাড়ির সীমানাপ্রাচীর ভাঙচুর, লুটপাট এবং তাঁর ২০০১ সালের ৫৩৩৯ নম্বর দলিলভুক্ত বসতভিটার ১৩ কড়া ও নাল জমির ২৬ কড়া অংশ টিন দিয়ে ঘিরে দখল করা হয় । পরে সেখানে একটি স্থাপনা নির্মাণ করা হয় বলে দাবি তাঁর । আরমান আরও জানান, ২৪ সেপ্টেম্বর দখল করা জমিতে পুনরায় দেয়াল নির্মাণের চেষ্টা করা হলে তিনি পুলিশকে খবর দেন ।
পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় । তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগের আগেই সাবেক কমিশনার নুরুল আমিন তাঁর মা আমেনা বেগমের ডান পায়ে দেশীয় অস্ত্র (কিরিচ) দিয়ে কোপ দেন । এতে তাঁর মায়ের পা প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ার মত । পরে পুলিশের সহযোগিতায় আমেনা বেগমকে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয় । অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন । বর্তমানে তিনি হাসপাতালের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন আরমান ।
এ ঘটনায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ কক্সবাজার আদালতে ১০৩/২৬ নম্বর মামলা দায়ের করেন মোহাম্মদ আরমান । পাল্টা মামলাকে হয়রানিমূলক দাবি : আরমানের দাবি, তাঁর দায়ের করা মামলা থেকে বাঁচতে গত ১ অক্টোবর সকাল ৯টার দিকে মারধরের অভিযোগ তুলে তাঁর বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করা হয়েছে । ওই মামলায় পাহাড়তলী, চট্টগ্রামের বাসিন্দা গার্মেন্টসকর্মী কহিনুর বেগম (স্বামী বাবুল মিয়া) এবং ছিকটঘাট এলাকার বাসিন্দা নজির আহমেদ (পিতা মতিউর রহমান)-কে মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান তিনি ।
আরমানের ভাষ্য, নজির আহমেদ পেকুয়া রোডে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন । অন্যদিকে, অভিযোগে উল্লেখ করা ঘটনার সময় তিনি কক্সবাজার দ্রুত বিচার আদালতে ছিলেন । তাঁর ভাই এমরান ও আবদুল হান্নান গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে আজ অব্দি মাকে নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অবস্থান করছেন বলেও দাবি করেন তিনি । আরমানের আরও দাবি, ২১ ও ২৪ সেপ্টেম্বরের ঘটনাগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল । ১ অক্টোবর সত্যিই কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে সেটিও স্থানীয়দের নজরে আসত বলে মন্তব্য করেন তিনি । সুষ্ঠু তদন্তের দাবি ; মোহাম্মদ আরমান অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন । একই সঙ্গে তাঁর বসতভিটা দখল ও মায়ের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ।###