জাহিদ হাসান,লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা পৌরসভার চেয়ারম্যানপাড়ায় এক একর জমির মালিকানা, নামজারি ও দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিরোধ দেখা দিয়েছে। মো. সেলিম (৫৬) নামের এক ব্যক্তির দাবি, প্রায় তিন যুগ আগে এক একর জমি কিনলেও বর্তমানে তাঁর পরিবারের দখলে রয়েছে মাত্র ১৫ শতক। এই বিরোধের জেরে লামা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে দুটি মামলা চলমান রয়েছে।ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লামা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় ১৯৮৮ সালে স্থানীয় আবদুল মাজিদের ছেলে শামসুল হকের কাছ থেকে প্রচলিত কাঁচা দলিলের মাধ্যমে এক একর জমি কেনেন মো. সেলিম। পরের বছর ১৯৮৯ সালে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে এ-সংক্রান্ত একটি কোর্ট এফিডেভিট (নম্বর-১১০/৮৯) সম্পন্ন করেন তিনি।মো. সেলিম জানান, জমিটি কেনার পর থেকে সেখানে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করে তাঁরা ভোগদখল করে আসছিলেন। ২০১৫ সালে জমির একাংশে দুটি বসতঘরও নির্মাণ করেন। পরবর্তী সময়ে ২০২০ সালে মিস মামলার মাধ্যমে এক একরের মধ্যে ৫০ শতক জমি নিজের নামে নামজারি করান তিনি। বাকি ৫০ শতক জমি তাঁর ভাইদের অংশ বলে দাবি করেন সেলিম। কিন্তু নানা জটিলতায় বর্তমানে পুরো এক একর জমির মধ্যে মাত্র ১৫ শতক তাঁদের পরিবারের দখলে রয়েছে।সেলিমের পরিবারের অভিযোগ, প্রতিপক্ষ বর্তমানে তাঁদের ক্রয়কৃত জমির দলিলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে এবং নানাভাবে হয়রানি করছে। তাঁদের বসতঘরের ঠিক পাশেই ওয়াশরুম নির্মাণ করা হয়েছে এবং চলাচলের রাস্তার পাশে দেয়াল তুলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ছাড়া বাড়ির আশপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে বসবাসের অনুপযোগী পরিবেশ তৈরি করায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তাঁরা।এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি জানান, শামসুল হক জীবিত থাকাকালে ওই জমি সেলিমের কাছে বিক্রি করেছিলেন বলে তাঁরা জানেন। তবে দীর্ঘদিনের এই বিরোধ মেটাতে মূল দলিল ও ভূমি রেকর্ডের আইনগত যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে তাঁরা মনে করেন। সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জমিটির দখল ও মালিকানা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে, যার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।অন্যদিকে, জমির দখল নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে প্রতিপক্ষের মাসুম বিল্লাহ সংক্ষেপে বলেন, ‘আমার বাবার জমির ওপরই আমি রয়েছি।’ তবে সেলিমের করা দলিল, নামজারি ও হয়রানিসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কাছ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।এমতাবস্থায়, জমির মূল দলিল, নামজারি খতিয়ান ও সরেজমিন দখল যাচাই করে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু সমাধানের জন্য স্থানীয় প্রশাসন এবং ভূমি কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে সেলিমের পরিবার।