শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়ায় বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক ও হেলপার নিহত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা অস্ট্রেলিয়াকে বড় লজ্জা উপহার দিল দক্ষিণ আফ্রিকা লামায় সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ চকরিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিদায় মহানবমীতে চকরিয়া হরি মন্দির পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক এপেক্স ক্লাব অব রামুর উদ্যোগে স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য লক্ষাধিক টাকা সহায়তা প্রদান চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ব্যবহৃত মেশিন জব্দ ও ধ্বংস চকরিয়ায় মিথ্যা মামলা থেকে জামিন পেলেন কলেজ শিক্ষার্থী আরমান,আদালতে প্রতারণা মামলা

মাতামুহুরিতে পুলিশের সফল অভিযান, শিশু হত্যার ঘটনায় আটক ৩

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬
  • ১২১ বার পড়া হয়েছে

মাতামুহুরি উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নে নিখোঁজের দুই দিন পর সাত বছর বয়সী শিশু ওয়াহিদুল ইসলামের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ গুমের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (১৬ জুন) চকরিয়া থানায় নিহত শিশুর বাবা তৌহিদুল ইসলাম (৩৩) বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলায় পূর্ব বড়ভেওলা এলাকার মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে ছৈয়দ হোসেন ওরফে মানিক ওরফে কাবিলা, আজিজুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম এবং মৃত জহির ইসলামের ছেলে মো. আরমানকে আসামি করা হয়েছে। তিনজনই বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে শিশুটি বাড়ির পাশের এলাকায় খেলতে বের হয়। সন্ধ্যার পরও বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিনও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় এলাকাজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয়দের সন্দেহের ভিত্তিতে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার মোড় ঘুরে যায়। আটক এক ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চরপাড়া এলাকার মাতামুহুরী খালের পাশে একটি পানিভর্তি গর্ত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, শিশুটিকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণের পর পাশবিক নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। পরে অপরাধের আলামত গোপন ও মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে খালের পাশের ওই গর্তে ফেলে রাখা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদনে শিশুর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার তিন আসামি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অপহরণ, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তদন্তের স্বার্থে তাদের আদালতে হাজির করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ডের আবেদন করা হবে। এ ছাড়া ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার আইনগত দিক সম্পর্কে আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম. ওমর আলী বলেন, শিশুটিকে অপহরণের পর সংঘবদ্ধভাবে যে জঘন্য অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তা অত্যন্ত নৃশংস। চকরিয়া থানায় দায়ের করা মামলায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত) এবং দণ্ডবিধির ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হলে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার কথা স্বীকার করেছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এ নির্মম ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। দোষীদের দ্রুত বিচার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews