লামায় ২ পিস ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

জাহিদ হাসান,লামা(বান্দরবান)প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় মাদক উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। এক পক্ষের দাবি, মাদকসহ আটক ব্যক্তির ঘটনায় নিরীহ ব্যবসায়ীকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও মিথ্যাভাবে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। অপর পক্ষের অভিযোগ, এলাকায় মাদক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় তাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লামা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাসুম সরদার এবং লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ শাহজাহান কামালের তত্ত্বাবধানে ১৮ জুন ২০২৬ ইং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় এসআই (নিঃ) সত্যজিৎ বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা লামা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড চেয়ারম্যান পাড়া এলাকার একটি দোকানের ভেতর থেকে স্থানীয়দের আটক করা মো. আলী জোহর (২৩) নামে এক যুবককে ২ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় লামা থানায় নিয়মিত মামলা করা হয়েছে।ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শুরু হয় নানা আলোচনা ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, যে দোকান থেকে ওই যুবককে আটক করা হয়, ওই দোকানের মালিক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতার অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।এ বিষয়ে মো. ইবনে ইদ্রিস ইমন লামা থানায় করা সাধারণ ডায়েরিতে উল্লেখ করেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় একটি কুলিং কর্নার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার অভিযোগ, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একটি পক্ষ তাকে সামাজিক ও ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে মাদক উদ্ধারের ঘটনায় জড়ানোর চেষ্টা করছে এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছে।তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০ জুন সন্ধ্যায় কয়েকজনের প্ররোচনায় এক ব্যক্তি তার দোকানের সামনে এসে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। পরে তার মা ঘটনাস্থলে গেলে তাকেও ধাক্কা দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে সাধারণ ডায়েরি করেন।অন্যদিকে, মো. আব্বাস উদ্দিন রুবেল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি লামা থানায় দেওয়া অভিযোগে দাবি করেন, এলাকায় মাদকবিরোধী কার্যক্রমে সহযোগিতা করায় তাকে ও অন্যদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তার অভিযোগ, মাদক মামলার সাক্ষী হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে।অভিযোগে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০ জুন সন্ধ্যায় চেয়ারম্যান পাড়া এলাকায় যাওয়ার পথে কয়েকজন তার পথরোধ করে হুমকি দিয়েছেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।এদিকে স্থানীয়রা বলছেন, মাদক উদ্ধারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনায় প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রমের আড়ালে যেন কোনো নিরীহ ব্যক্তি হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।এ বিষয়ে লামা থানা পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।