
বিশ্বকাপ ফাইনালের শেষ বাঁশি বেজে গেছে, ট্রফি উঠেছে স্পেনের হাতে! কিন্তু আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল ম্যাচ ঘিরে বিতর্ক যেন মাঠ ছেড়ে নতুন ঠিকানা পেয়েছে অনলাইনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে অনলাইন পিটিশন প্ল্যাটফর্ম-সবখানেই চলছে তুমুল আলোচনা। এক পক্ষ ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি তুলছে, অন্য পক্ষ চাইছে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করা হোক।
নিউজার্সিতে ১৯ জুলাই অনুষ্ঠিত শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচকে ঘিরে অনলাইনে শুরু হয়েছে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। একদিকে কেউ ফাইনাল পুনরায় আয়োজনের দাবি জানাচ্ছেন, অন্যদিকে আর্জেন্টিনাকে ভবিষ্যতের বিশ্বকাপ থেকে নিষিদ্ধ করার দাবিও তুলেছেন অনেক ফুটবল সমর্থক!
মজার বিষয় হলো, পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই রেফারিং নিয়ে আর্জেন্টিনাকে ঘিরে বিতর্কের দুই বিপরীত চিত্র দেখা গেছে। প্রতিযোগিতার শুরুতে সামাজিক মাধ্যমে অভিযোগ ওঠে, ফিফা নাকি আর্জেন্টিনাকে বিশেষ সুবিধা দিচ্ছে। বিশেষ করে মিসরের বিপক্ষে নাটকীয় ৩-২ গোলের জয়ের পর রেফারিং নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মিসরের কোচ হোসাম হাসান ও ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো। তবে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি শুরু থেকেই এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেন।
তবে ক্রীড়া আইনের দৃষ্টিতে এসব পিটিশনের বাস্তব প্রভাব খুবই সীমিত। কোনো ম্যাচের ফল শুধু অনলাইন স্বাক্ষরের ভিত্তিতে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। একইভাবে ফাইনাল পুনরায় আয়োজনেরও কোনো নির্ধারিত আইনি বিধান নেই। বিশেষ পরিস্থিতি ছাড়া এমন সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে আয়োজক সংস্থার এখতিয়ার।ফাইনালে স্পেন ১-০ গোলে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয়। ২০২২ বিশ্বকাপে সৌদি আরবের কাছে হারের পর টানা ১৩ ম্যাচ জিতে ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা। তাই অনেকেই তাদের টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছিলেন। কিন্তু শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি স্কালোনির দল। বরং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসকে একের পর এক স্প্যানিশ আক্রমণ ঠেকাতে ব্যস্ত থাকতে হয়েছে। ম্যাচ শেষে অবশ্য রেফারিং নিয়ে কোনো অভিযোগ না তুলে এটিকে ন্যায্য বলেই মন্তব্য করেন স্কালোনি।
স্পেন এরই মধ্যে দেশে ফিরে ছাদখোলা বাসে বিশ্বকাপ জয়ের উদযাপন করেছে। অথচ ফুটবলপ্রেমীদের একাংশ এখনো ফাইনালের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক থামাতে পারছেন না। ফলে মাঠের লড়াই শেষ হলেও আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনালকে ঘিরে অনলাইন বিতর্ক ও মতবিভাজনের ম্যাচ যেন এখনো চলছেই!