শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা অস্ট্রেলিয়াকে বড় লজ্জা উপহার দিল দক্ষিণ আফ্রিকা লামায় সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ চকরিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিদায় মহানবমীতে চকরিয়া হরি মন্দির পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক এপেক্স ক্লাব অব রামুর উদ্যোগে স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য লক্ষাধিক টাকা সহায়তা প্রদান চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ব্যবহৃত মেশিন জব্দ ও ধ্বংস চকরিয়ায় মিথ্যা মামলা থেকে জামিন পেলেন কলেজ শিক্ষার্থী আরমান,আদালতে প্রতারণা মামলা লামায় জমি নিয়ে বিরোধ, ভোগান্তিতে ভুক্তভোগী পরিবার

চকরিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিদায়

  • প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

চকরিয়া সার্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পূজা উদযাপন কমিটি কর্তৃক টানা পাঁচ দিনের পূজা-অর্চনার আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় নিয়েছেন দেবী দুর্গা। সেই সঙ্গে সমাপ্তি ঘটেছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসবের।

বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে চকরিয়া পৌর শহরের মাতামুহুরি নদীর তীরে হাজারো ভক্তের উপস্থিতিতে দেবী দুর্গার প্রতিমাগুলো বিসর্জন দেওয়া হয়।দুপুর থেকেই ঢাক-ঢোল, কাঁসর-ঘণ্টার বাদ্যের তালে তালে শহরের বিভিন্ন মন্দির ও মহল্লা থেকে শোভাযাত্রা করে প্রতিমাগুলো মাতামুহুরি নদীর তীরে আনা হয়।পরে ভক্তিদেরযোগে সেগুলো নদীর মাঝখানে নিয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়।এ সময় চারদিকে ছিল বিষাদের সুর।

ভক্তদের কারও চোখে দেখা যায় অশ্রু, কারও ঠোঁটে শোনা যায় দেবীর বন্দনা। কেউ শেষ মুহূর্তে মায়ের কাছে মঙ্গল কামনা করেন।
কেউবা নদীর পানি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের শরীরে ছিটিয়ে নেন।
প্রতিমা বিসর্জন দেখতে আসা জনি শর্মা জানান,দশমীর লগ্ন শুরু হয়ে যাওয়া মানেই মন খারাপের শুরু। খুব কষ্ট লাগছে, মা চলে যাচ্ছেন। এই কয়েক দিন মা ছিলেন, তাই আনন্দে কেটেছে। মায়ের কাছে চাওয়া, মা যেন এ দেশ থেকে সব ধরনের অপশক্তি দূর করে দেশকে শান্তিময় করেন। সবাইকে ভালো রাখেন। এই কয়েকটা দিন ছিল খুবই আনন্দের। মা দুর্গা তাদের মাঝে ছিলেন, তাই চারপাশ আনন্দে ভরে উঠেছিল। কিন্তু আজ মা চলে যাচ্ছেন, সেই কষ্টে বুকটা ভরে উঠছে। আবারও এক বছর মায়ের আসার জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এবারের পূজায় তিনি বিশেষ প্রার্থনা করেছেন, যেন দেশ শান্তিময় হয় এবং সবার জীবনে সুখ ও সমৃদ্ধি নেমে আসে। অসুর বধ করার জন্য ধরাধামে এসেছিলেন। আমরা মায়ের কাছে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই, যাতে অশুভ শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে। অন্যায়-অপরাধ দূর হোক। আগামীতে দেশ যেন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয় এবং সব মানুষের মঙ্গল হয়, এটাই মায়ের কাছে প্রার্থনা।

দশমীর সকালে মণ্ডপ ও মন্দিরে পূজার অন্যতম প্রধান আচারে অংশ নেন নারীরা।দুর্গার পায়ে সিঁদুর নিবেদন করে তারা দেবীর শক্তির প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এরপর একে অপরের গায়ে সিঁদুর মেখে জীবনের সমৃদ্ধি কামনা করেন।

প্রতিমা বিসর্জন ঘিরে বিসর্জন এলাকায় নেওয়া হয় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা। বিসর্জন কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। প্রতিমা বিসর্জনের শোভাযাত্রায় পুলিশের বিশেষ দল সোয়াট ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সদস্যরা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছেন। এ ছাড়া আনসার গার্ড ব্যাটালিয়ন, ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ অন্যান্য দলের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

চকরিয়া থানার ওসি ( ভারপ্রাপ্ত) আরিফুর রহমান বলেন, প্রতিমা বিসর্জনকে কেন্দ্র করে চকরিয়া ও মাতামুহুরিসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পূজার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চকরিয়া পৌরসভা বিএনপি, যুবদল, শ্রমিকদলের নেতারা দায়িত্ব পালন করছে।

চকরিয়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম আবদুর রহিম ভোরের কণ্ঠকে জানান, ধর্ম  যার যার, রাষ্ট্র সবার। চকরিয়া পৌর এলাকায় যে সব মন্দির ও পূজামণ্ডুপ রয়েছে তাদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের নির্দেশে পূজার শুরু থেকে দশমী পর্যন্ত দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা করি। এর উল্লেখযোগ্য একটি অংশ প্রতিমা বিসর্জন উৎসব উপভোগ করেছে। প্রতিমা বিসর্জন উৎসব সুন্দর ও নির্বিঘ্ন করতে সব প্রস্তুতি ছিল। তাই  বিসর্জন অনুষ্ঠান সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সক্ষম হয়েছে। দেশের এই বৃহত্তম প্রতিমা বিসর্জন অনুষ্টান কোন ধরনের অনাকাঙ্খিত ঘটনা ছাড়া শেষ করতে পারায় আমরা সকলের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতি শরতে দেবী দুর্গা স্বামীর বাড়ি কৈলাস ছেড়ে কন্যারূপে পিতৃগৃহে আগমন করেন।পক্ষকাল পর তিনি ফিরে যান স্বামীগৃহে। এই পাঁচ দিন ভক্তরা দেবীর বন্দনা, পূজা ও উৎসবে মেতে ওঠেন। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবীকে বিদায় জানালেও অন্তরে থেকে যায় আগামী বছর তার পুনরাগমনের প্রত্যাশা।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সার্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুভাষ কান্তি দাশ,মন্দির পরিচালনা কমিটির সহসভাপতি নারায়ণ কান্তি দাশ,চকরিয়া উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি তপন দাশ, সাধারণ সম্পাদক বাবলা দেবনাথ, উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক মুকুল কান্তি দাশ,সার্বজনীন কেন্দ্রীয় হরি মন্দির পরিচালনা কমিটির কার্যকরী সভাপতি সুজিত কান্তি দাশ এবং সাধারণ সম্পাদক ডা. অসীম কান্তি দে, চকরিয়া পৌরসভার প্যানেল মেয়র -০২ ও ৮ নং ওয়ার্ডে র কমিশানরা মো: মুজিবুল হক মুজিব, পৌর ২ নং ওয়ার্ডের বিএনপি নেতা একরামুল হক, এডভোকেট মনোহর আলম প্রমুখ।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews