
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে মাঠে ময়দানে আলোচনার ঝড় তুলেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) লন্ডন বিএনপির সাংগঠনিক সহ সম্পাদক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী।
চকরিয়া পৌরসভা ১ নং ওয়ার্ড কাজীর পাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা মো. জামাল উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি ১৯৯৩ সালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর নেতৃত্বে রাজনীতির হাতেখড়ি। চকরিয়া, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম মহানগরে ছাত্রদল ও যুবদলে রাজনীতির মাধ্যমে বিভিন্ন স্তরে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ সালে দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতাচ্যুত হলে বিভিন্ন মামলায় জড়িত হয়ে তিনি গা ঢাকা দেন। ১/১১ এর সময় ফ্যাসিস্ট আ.লীগের পুলিশী নির্যাতন নিপীড়ন,মামলা- হামলা সহ্য করতে না পারে লন্ডনে পাড়ি জমান।এই দীর্ঘ নীপিড়নের মুখেও বশ্যতা স্বীকার করেননি। তার অনুপস্হিতির সুযোগে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ঐসময়ে গ্রামের বাড়ি ভাংচুর করেছিলেন, যার ভিডিও সংরক্ষিত আছে এবং আদালতে মামলা চলমান আছে।
ব্যক্তিগতভাবে বাংলাদেশ থেকে তিনি পদার্থ বিদ্যা বিষয়ের উপর বিএসসি(সম্মান) এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন। পরবর্তীতে পৃথিবীখ্যাত বিদ্যাপীঠ ইউনিভার্সিটি অব সান্ডারল্যান্ড থেকে ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরিজম এন্ড হসপিটালিটি ম্যানেজম্যান্ট এর উপর আবার এমএসসি ডিগ্রী অর্জন করেন।
পাশাশপাশি কঠোর পরিশ্রম ও মেধা দিয়ে লন্ডনে তিনি ব্যাপকভাবে ব্যবসায়িক সফলতা অর্জন করেন এবং স্ত্রী ও চার সন্তান লন্ডনেই থাকেন। ব্যবসায়িক সফলতার পাশাপাশি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে লন্ডন বিএনপির সাংগঠনিক সহ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে তিনি ১৭ বছর দলের দু:সময়ে নেতাকর্মীদের সক্রিয় ও দলের জন্য আন্দোলন সংগ্রামে অর্থ যোগান দিয়েছিলেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর ০৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি দেশে ফিরেন।
দেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করার পরিকল্পনা নিয়ে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন তথা চকরিয়া পৌরসভায় মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে লড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
এদিকে স্থানীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী হাওয়া বইয়ে চলছে। চকরিয়া পৌরসভাবাসী চাই একজন পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভোট দিয়ে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জয় করতে।
তিনি ভোরের কণ্ঠকে বলেন, “জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে পারলে চকরিয়া পৌরসভাকে একটি আধুনিক,পরিকল্পিত ও বৈষম্যহীন মডেল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
তিনি জানান, নাগরিক ভোগান্তি কমাতে পৌরসভার সেবাগুলোকে পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনা হবে। জন্মনিবন্ধন,হোল্ডিং ট্যাক্স, ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা অনলাইনে সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন।
তিনি আরও জানান, মেয়র নির্বাচিত হলে প্রধান লক্ষ্য হবে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। দুর্নীতির কোনো স্থান থাকবে না।
তিনি কিশোর গ্যাং দমন, মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদার এবং পৌর এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা চালুর আশ্বাস দেন।সর্বোপরি চকরিয়া পৌরসভাকে চাঁদাবাজ, বালুখেকোমুক্ত, দখল দারিত্বমুক্ত, মামলাবাজমুক্ত ও সন্ত্রাসীমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল( বিএনপি) এর মধ্যে স্বচ্ছ – পরিচ্ছন্ন মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন চৌধুরী সবার শীর্ষে।
তিনি পৌরবাসীকে সালাম জানালেন ও সকলের দোয়া চেয়েছেন।
দলীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে আগামী দিনের নেতৃত্বে তরুণ, মেধাবী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়ে নীতিগত আলোচনা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় চকরিয়া পৌরসভা নির্বাচনে মোহাম্মদ জামাল চৌধুরীকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত তার পক্ষ থেকে কিংবা দলীয়ভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও সাধারণ জনগণের মাঝে তাকে নিয়ে ব্যাপক কৌতূহল ও উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দল থেকে মনোনয়ন পেলে এবং তিনি নির্বাচনী লড়াইয়ে অবতীর্ণ হলে চকরিয়ার ভোটের মাঠে বড় ধরনের প্রভাব বিস্তার করতে পারেন। সব মিলিয়ে মোহাম্মদ জামাল চৌধুরীর সম্ভাব্য প্রার্থিতা চকরিয়া পৌরসভার নির্বাচনী আমেজে নতুন প্রাণ সঞ্চার করেছে।
আসন্ন নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হলে পৌর রাজনীতির মাঠ আরও সরগরম হয়ে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।