
রামু(কক্সবাজার) প্রতিনিধি:
কক্সবাজারে জেন্ডার সমতা নিশ্চিতকরণ ও শিক্ষার্থীদের জীবনদক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যে ৩ দিনব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা সম্পন্ন করেছে রুম টু রিড বাংলাদেশ। “জেন্ডার ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাপ্রোচ-এ জীবনদক্ষতা শিক্ষা” শীর্ষক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালা ৭ থেকে ৯ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত কক্সবাজারের সিউরস্টে হলরুমে অনুষ্ঠিত হয়।
জেন্ডার ইকুয়ালিটি পোর্টফোলিও-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মশালায় কক্সবাজার সদর ও রামু উপজেলার ১০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ২০ জন সহকারী শিক্ষক ও ১০ জন প্রধান শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণে জেন্ডার ট্রান্সফরমেটিভ অ্যাপ্রোচ, জীবনদক্ষতা শিক্ষা, কার্যকর ফ্যাসিলিটেশন কৌশল এবং মেন্টরিং দক্ষতা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও ব্যবহারিক অনুশীলন অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে কক্সবাজার অফিসের ম্যানেজার চিত্তপ্রিয় আচার্য্য স্বাগত বক্তব্যে অংশগ্রহণকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। পরে প্রোগ্রাম ম্যানেজার ইফ্ফাত জেরীন প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য তুলে ধরে বলেন, “এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব হবে।”
প্রশিক্ষণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা। বিশেষ অতিথি ছিলেন কক্সবাজার সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফয়সল রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. গোলাম মোস্তফা বলেন, “বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইভিত্তিক জ্ঞান নয়, বরং জীবনদক্ষতা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রশিক্ষণ শিক্ষকরা জেন্ডার সংবেদনশীলতা, সহনশীলতা এবং ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তোলার কৌশল শিখছেন, যা শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী শিক্ষকরা জেন্ডার সমতা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, জীবনদক্ষতা শিক্ষা বাস্তবায়ন এবং শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক শিক্ষণ পদ্ধতি প্রয়োগে সক্ষমতা অর্জন করেন। এছাড়া বিদ্যালয়ভিত্তিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য তারা বাস্তবসম্মত পরিকল্পনাও প্রণয়ন করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা বিদ্যালয়ে কার্যকরভাবে প্রয়োগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত হবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠবে।
রুম টু রিড বাংলাদেশ সম্পর্কে:
রুম টু রিড বাংলাদেশ একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা। ২০০৯ সাল থেকে সংস্থাটি শিশুদের সাক্ষরতা উন্নয়ন এবং শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করতে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটির সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করে আসছে।