শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়ায় বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক ও হেলপার নিহত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা অস্ট্রেলিয়াকে বড় লজ্জা উপহার দিল দক্ষিণ আফ্রিকা লামায় সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ চকরিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিদায় মহানবমীতে চকরিয়া হরি মন্দির পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক এপেক্স ক্লাব অব রামুর উদ্যোগে স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য লক্ষাধিক টাকা সহায়তা প্রদান চকরিয়ায় অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান, ব্যবহৃত মেশিন জব্দ ও ধ্বংস চকরিয়ায় মিথ্যা মামলা থেকে জামিন পেলেন কলেজ শিক্ষার্থী আরমান,আদালতে প্রতারণা মামলা

কক্সবাজারে টানা বৃষ্টিতে বিপাকে লবণ চাষিরা

  • প্রকাশিত: রবিবার, ৩ মে, ২০২৬
  • ১৮৫ বার পড়া হয়েছে

তীব্র রোদের দিনগুলোই ছিল কক্সবাজারের লবণ চাষিদের বেঁচে থাকার সবচেয়ে বড় শক্তি। সূর্যের তাপকে তারা শত্রু নয়, বরং আশীর্বাদ হিসেবেই দেখতেন কারণ সেই রোদের ওপরই দাঁড়িয়ে ছিল তাদের স্বপ্ন, সংসার আর জীবনের হিসাব-নিকাশ। কিন্তু হঠাৎই বদলে গেল সবকিছু। বৈরী আবহাওয়া আর টানা বৃষ্টিপাত যেন এই শিল্পের ওপর নেমে এসেছে এক নীরব ধ্বংসযজ্ঞ ।

কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ লবণের মাঠ যেখানে প্রতিদিন সাদা সোনার ঝিলিক ছড়িয়ে পড়ত, সেখানে এখন জমে আছে বৃষ্টির পানি। মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই লবণ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেঙে পড়েছে হাজারো পরিবারের জীবনের ভিত।

সরজমিন খুরুশকুলের চৌফলদণ্ডী, নাপিতখালী আর ইসলামপুরের লবণ মাঠে গেলে দেখা যায় এক বুক ভারী করা দৃশ্য। বিশাল মাঠজুড়ে ছড়িয়ে থাকা কালো পলিথিন, কোথাও জমে থাকা পানি, আর দূরে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন শ্রমিক ,যাদের চোখে ক্লান্তি নয়, যেন নিঃশব্দ কান্না জমে আছে। সরোয়ার , আব্দুল হালিম , আবুল হোসেন সহ ৩ জন লবণ চাষি বলেন যে লবণ আমরা কষ্ট করে তুলেছিলাম, সব বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে। কথাগুলো শেষ হয়, কিন্তু তাদের চোখের ভাষা বলে দেয় আরও অনেক কিছু।

এদিকে কক্সবাজারের লবণ শিল্পের সঙ্গে সরাসরি জড়িত প্রায় ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ। কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক মো. জাফর ইকবাল ভূঁইয়া জানান, আকস্মিক বৃষ্টিতে সাধারণত লবণ সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না, তবে এ বছর সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয়েছে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। প্রায় ১২ দিন উৎপাদন বন্ধ থাকায়, দৈনিক গড়ে উৎপাদন অনুযায়ী প্রায় ৩ লাখ মেট্রিক টন লবণ কম উৎপাদন হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বৃষ্টি কমে এলে আবার তাপপ্রবাহ ফিরে আসতে পারে।

অন্যদিকে লবণ চাষীদের আবারও নতুন করে স্বপ্ন বুনেন , প্রতিটি ব্যর্থ মৌসুমের পরেও তারা নতুন করে মাঠে নামেন, পলিথিন বিছান, পানি শুকানোর অপেক্ষায় থাকেন, আর আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেন আগামী দিনটা নিশ্চয়ই ভালো হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews