পেকুয়ার মানব পাচারের শিকার যুবককে ইন্টারপোলের সহায়তায় লিবিয়া থেকে উদ্ধার

কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার এক যুবককে ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার করার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে তাকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ, ইন্টারপোল, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সমন্বিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ভুক্তভোগী নাবিরুল ইসলাম ফাহিম (বাপ্পু) গত ২৪ জুন দেশে ফেরেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই মানব পাচারকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্র ইতালিতে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে ফাহিমকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
তবে ইতালিতে নেওয়ার পরিবর্তে তাকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে স্থানীয় মানব পাচারকারী মাফিয়া চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে লিবিয়ায় অবস্থানরত ওই মাফিয়া চক্র ফাহিমের মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে মুক্ত ও দেশে ফেরত পাঠানোর শর্তে ৫০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
বিষয়টি জানার পর ফাহিমের মা বাদী হয়ে পেকুয়া থানায় মানব পাচারের অভিযোগে ১২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পরপরই পেকুয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভুক্তভোগীর অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং তাকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
এরপর বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের এআইজি (এনসিবি)-এর মাধ্যমে ইন্টারপোলের সহযোগিতা চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং লিবিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের সহায়তায় ভুক্তভোগীকে মানব পাচারকারী চক্রের কবল থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
দীর্ঘ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া শেষে গত ২৪ জুন তাকে নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মানব পাচার চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দেখিয়ে মানব পাচারের ঘটনা এখনো উদ্বেগজনক হারে ঘটছে।
তাই বিদেশগামীদের অবশ্যই সরকারি অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়ার এবং কোনো প্রকার আর্থিক লেনদেনের আগে তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।