মাত্র ১৪ বছর বয়সে যখন সহপাঠীরা খেলাধুলা আর পড়াশোনা নিয়ে ব্যস্ত, তখনই মাথায় পাকা বা ধূসর চুল দেখে দুশ্চিন্তায় পড়ে যায় কানাডার কিশোরী অ্যাশলে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের চুলের এই পরিবর্তন তাকে মানসিকভাবে ভেঙে দেয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সমস্যা শুধু অ্যাশলের একার নয়—বর্তমানে বিশ্বের বহু কিশোর-কিশোরী অকালপক্ব চুলের সমস্যায় ভুগছে।
কেন অকালেই চুল পাকে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম বয়সে চুল পেকে যাওয়ার সবচেয়ে বড় এবং প্রধান কারণ হলো জিনগত প্রভাব। যদি পরিবারের পূর্বপুরুষদের (বাবা-মা বা দাদা-দাদি) মধ্যে কম বয়সে চুল পাকার ইতিহাস থাকে, তবে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যেও তার প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
সাধারণত চুলের গোড়ায় থাকা বিশেষ কোষগুলো যখন রং বা মেলানিন তৈরি করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, তখনই চুল ধূসর বা সাদা হয়ে যায়। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হলেও কৈশোরে একে ‘অকালপক্বতা’ বলা হয়।
খাদ্যঘাটতি ও জীবনযাপনের ভূমিকা
চিকিৎসকদের মতে, কেবল জিন নয়, আধুনিক অনিয়মিত জীবনযাপনও এর জন্য দায়ী। অকালে চুল পাকার পেছনে প্রধান কারণগুলো হলো-
পুষ্টির অভাব: শরীরে আয়রন, জিংক, কপার এবং বিশেষ করে ভিটামিন বি-১২-এর ঘাটতি থাকলে দ্রুত চুল পেকে যেতে পারে।
মানসিক চাপ: অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও ক্লান্তি চুলের রং হারানোর গতি বাড়িয়ে দেয়।
পরিবেশ ও অভ্যাস: বায়ুদূষণ, ধূমপান এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসও চুলের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
প্রতিকার ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি পুষ্টির অভাবে চুল পেকে থাকে, তবে সুষম খাবার ও ভিটামিন সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে চুলের অবস্থা আংশিক উন্নত করা সম্ভব। তবে এটি যদি জিনগত কারণে হয়, তবে তা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা প্রায় অসম্ভব।
প্রতিরোধের কিছু উপায়
*খাদ্যতালিকায় প্রচুর ফলমূল, শাকসবজি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার রাখা।
*মানসিক চাপ কমাতে যোগব্যায়াম বা নিয়মিত শরীরচর্চা করা।
*ধূমপান ও দূষণ এড়িয়ে চলা।
বিশেষজ্ঞদের শেষ কথা হলো—কম বয়সে চুল পাকলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পুষ্টি ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত। অনেক ক্ষেত্রে খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এ সমস্যার গতি কমানো সম্ভব।