
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ২০০-রও বেশি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট। এরই মধ্যে বিভিন্ন দেশ বিএনপি ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনে বিএনপির জয় নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীনও।
এক প্রশ্নের জবাবে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ‘সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ ভোটের’ জন্য বাংলাদেশকে এবং তাতে জয়ী বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। পাশাপাশি বলেছেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এগিয়ে নিতে ‘বেল্ট অ্যান্ড রোডস’ (বিআরআই) প্রকল্পে সহযোগিতা আরও জোরদার করতে চায় তারা।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রকে বাংলাদেশের নির্বাচনে বিএনপির ভূমিধস বিজয়ের কথা জানিয়ে প্রশ্ন করা হয়, এ ব্যাপারে চীনের মন্তব্য কী? উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘চীন দেখেছে যে বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচন স্থিতিশীল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দন জানায় চীন। বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসেবে, দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কর্মসূচি এগিয়ে নিতে বাংলাদেশকে সমর্থন দেয় চীন। পাশাপাশি, দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব এগিয়ে নিতে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানাচ্ছে তারা।’
এ সময়ে বিআরআই প্রকল্পের কথা আলাদা করে উল্লেখ করেছেন মুখপাত্র, ‘চীন আরও বলছে, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা জোরদার করা হবে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে, চীন-বাংলাদেশের সমন্বিত কৌশলগত সহযোগী অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করা হবে।’
বিআরআই বা বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ হলো চীনের একটি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন উদ্যোগ। এর লক্ষ্য হলো চীনের সুদুরপ্রসারী লক্ষ্য অর্জনের পথ হিসেবে বিভিন্ন দেশকে পরস্পরের সঙ্গে রেল, সড়ক, বন্দর, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর মাধ্যমে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। একে এক ধরণের ‘আধুনিক সিল্ক রুট’ পরিকল্পনা বলা যায়, যেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে উন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধিতে সহায়তা করে চীন।
বাংলাদেশে চীনের বিআরআই-এর অধীনে প্রকল্প কী কী, মোট বিনিয়োগ
বাংলাদেশে পদ্মা বহুমুখী সেতু ও রেল লিঙ্ক, কর্ণফুলী সাবমেরিন টানেল, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট শক্তিশালী কয়লা–বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ বেশ কিছু প্রকল্প আছে বিআরআই-য়ের অধীনে। চট্টগ্রামের আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার পরিকল্পনাও আছে এই প্রকল্পের অধীনে।
২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, বাংলাদেশে এর আগের দশ বছরে বিআরআইয়ের অধীনে বিভিন্ন প্রকল্পে চীন প্রায় ৪৪৫ কোটি ডলার ছাড় করেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাঙ্ক আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট সে সময় জানিয়েছিল, বাংলাদেশে বিআরআইয়ের অধীন চলমান ও সম্পন্ন হওয়া প্রকল্প মিলিয়ে চীনের বিনিয়োগের পরিমাণ ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি।