
জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।।
বান্দরবানের লামা উপজেলার রূপসী পাড়া বাজার জামে মসজিদের জমি দখল নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও পাল্টা দাবিতে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে চরম বিভ্রান্তি। একদিকে মসজিদ পরিচালনা কমিটি জমি দখলের অভিযোগ তুলছে, অন্যদিকে অভিযুক্ত মো. আবেদ আলী দাবি করছেন—তিনি বৈধভাবে জমি ক্রয় করেছেন এবং তার কাছে কাগজপত্র রয়েছে।মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি গোলজার হোসেনের অভিযোগ, ২৯৪ নং দরদরী মৌজার আর/১৫৯১নং হোল্ডিংভুক্ত প্রায় ৩.৩৫ একর জমি মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে রেকর্ডভুক্ত। এই জমির একটি অংশ, আনুমানিক ১০ শতক, প্রায় ১০-১২ বছর আগে জোরপূর্বক দখল করে সেখানে তিনটি দোকানঘর নির্মাণ করেন মো. আবেদ আলী। বর্তমানে তিনি একটি দোকানে নিজে ব্যবসা করছেন এবং অন্য দুটি ভাড়া দিয়ে নিয়মিত অর্থ আদায় করছেন বলেও দাবি করা হয়। মসজিদের প্রয়োজনে জায়গাটি ছাড়ার অনুরোধ জানানো হলে উল্টো ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন মো. আবেদ আলী। সাংবাদিকদের তিনি জানান, ২০১২ সালের ৯ জুলাই রূপসী পাড়া বিনোদন ক্লাবের কার্যকরী কমিটির কাছ থেকে লিখিত ও স্বাক্ষরিত দলিলের মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ টাকায় তিনি জমিটি ক্রয় করেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, উক্ত জায়গাটি দীর্ঘদিন ধরে বিনোদন ক্লাবের দখলে ছিল এবং সেখানে ক্লাবঘর, গাছপালা ও অন্যান্য স্থাপনা ছিল। পরবর্তীতে ক্লাবের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জমিটি তার কাছে হস্তান্তর করা হয়।তিনি আরও দাবি করেন, সে সময় এলাকার কেউই জমিটিকে মসজিদের সম্পত্তি হিসেবে উল্লেখ করেননি। বরং সংশ্লিষ্ট ক্লাবের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হয়।উল্লেখযোগ্যভাবে, ওই দলিল দাতাদের মধ্যে অভিযোগকারী গোলজার হোসেনের ভাইও রয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন।এদিকে স্থানীয় কিছু বাসিন্দার মতে, একই এলাকায় আরও কয়েকজন ব্যক্তি দোকান ও বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করছেন। ফলে শুধু একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, এর পেছনে ব্যক্তিগত বা আর্থিক বিরোধও থাকতে পারে।এ বিষয়ে লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগও গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পরীক্ষা এবং শুনানির মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।