
বরিশালে অগ্রণী হাউজিংয়ের এমডিকে স্পর্শকাতর স্থানে চেপে ধরে চেক এবং স্ট্যাম্পে সই নেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার অন্যজন হলেন- আবুল কালাম।
এর আগে দুপুরের দিকে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী বরিশালের বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির চেয়ারম্যান ও অগ্রণী হাউজিং কোম্পানির এমডি আব্দুল আজিজ।
সংবাদ সম্মেলনে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বরিশাল জেলার সাধারণ সম্পাদক এইচএম তসলিম উদ্দিন বলেন, যতদূর জেনেছি ঘটনাটি কয়েকদিন আগের। এখন সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে অভিযুক্তকে যুবদল নেতা আখ্যা দিয়ে বিএনপির নামে বদনাম করার চেষ্টা করছে কোনো একটি চক্র। আমরা দাবি করছে, সাংবাদিকরা সত্য ঘটনা প্রচার করবে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ভাইরাল হওয়া সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, চারজন ব্যক্তি তার অফিস কক্ষে ঢোকে ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের বের করে দেন। এসময় বৃদ্ধ বয়সী আব্দুল আজিজকে চেয়ারের ওপর থেকে মাটিতে ফেলে মারধর করে চেক এবং স্ট্যাম্পে সই করিয়ে নেয়। পরে তারা কাগজগুলো নিয়ে তার সঙ্গে ছবি তোলেন।
বরিশাল নগরীর কাটপট্টি রোড এলাকার বাসিন্দা অভিযুক্ত মোস্তাফিজুর রহমান লিটু বলেন, ভিডিওতে যা দেখা যাচ্ছে সব ঠিক আছে। অনেকটা বাধ্য হয়েই কাজটি করতে হয়েছে। আব্দুল আজিজ হাওলাদার আমাদের সঙ্গে হাউজিং ব্যবসায় প্রতারণা করেছে।
তিনি আরও বলেন, আমি অগ্রণী হাউজিংয়ের একজন পরিচালক। আমার হিসাব অনুযায়ী এমডির কাছে ৫৪ লাখ টাকা পাব। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন, ৩৬ লাখ টাকা পাব। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই ঝামেলা চলছে। বিগত আমলে পুলিশ দিয়ে হয়রানি করিয়েছে।
লিটু বলেন, হাউজিংয়ের আরেকজন পরিচালক মিজান এক কোটি ৭০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। এর পেছনেও এমডির হাত রয়েছে। এমডির আপন ভাইয়েরাও তার বিরুদ্ধে ২০১৬ সালে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছে।
টাকা লেনদেনের বিষয়ে কোনো মামলা বা থানায় অভিযোগ করেছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে অভিযুক্ত বলেন, আমার ছোট ভাই মামলা করেছে। আমরা স্বাভাবিকভাবে বিষয়টি সমাধান করতে চেয়েছিলাম।
ঘটনার বিষয়টি ভুক্তভোগী মো. আব্দুল আজিজ বলেন, গত ২৭ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাকলা ডেভেলপারস প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সাবেক হোল্ডার মো. মোস্তাফিজুর রহমান লিটুসহ বেশ কয়েকজন তার কার্যালয়ে এসে স্পর্শকাতর স্থানে চেপে ধরে। এসময় তার কাছ থেকে ৭০ লাখ চাঁদা দাবি করে। এছাড়াও তার কাছ থেকে জোর করে লিখিত ৬টি স্ট্যাম্পে ও চেকে স্বাক্ষর নেয়।
তিনি আরও বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আবুল কালাম ও আব্দুল মালেকের নামে বরিশালের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেছি।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদ বলেন, ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আমাদের নজরে আসে। এরপরই অভিযান চালিয়ে লিটু নামের ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছি। এ বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার।