রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রামিসার মতো অপ্রতিম হত্যারও দ্রুত বিচার হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ জানালেন মোঃ বাতেন চীনের ইয়ানশান বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ থেকে ইয়ানশান : এক বছরের একাডেমিক অগ্রযাত্রা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গল্প তাবুক যুদ্ধে নবীজির নামাজ আদায়ের স্থানগুলো নায়িকা দীঘির দিন শেষ, বললেন শাহরিয়ার নাজিম জয় স্বর্ণের দামে বড় লাফ বাংলাদেশ থেকে চীন : ইয়ানশান বিশ্ববিদ্যালয়ের ওহিন্দ্রিলা ভট্টাচার্যের শিক্ষাগত উৎকর্ষের যাত্রা মাতামুহুরি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ,অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত করতে বৈঠকে বসছে ইসি

চীনের ইয়ানশান বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনের অভিজ্ঞতা

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

 

তূর্য ভট্টাচার্য চীনের ইয়ানশান ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করা আমার একাডেমিক জীবনের অন্যতম অর্থবহ অভিজ্ঞতা। একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে বর্তমানে ইনফরমেশন সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করছি। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি গর্বিত ও কৃতজ্ঞ।

তূর্য ভট্টাচার্য বলেন, তাঁর শিক্ষাজীবনকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করে তুলেছে স্কলারশিপ ও স্টাইপেন্ডের সুবিধা। একজন আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী হিসেবে এই আর্থিক সহায়তা তাঁর দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে এবং পড়াশোনা ও গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। একই সঙ্গে এটি তাঁকে মানসিক স্বস্তি দিয়েছে এবং একাডেমিক লক্ষ্য অর্জনে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে উৎসাহিত করছে।

চীনের জীবনযাত্রার মানও তাঁকে বিশেষভাবে মুগ্ধ করেছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, দেশটির পরিবেশ আধুনিক, সুসংগঠিত ও আরামদায়ক। পাশাপাশি চীনের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানার সুযোগ তাঁর অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করেছে।

ইয়ানশান ইউনিভার্সিটিতে তাঁর অভিজ্ঞতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গবেষণার পরিবেশ ও আধুনিক ল্যাবরেটরি সুবিধা। তূর্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিগুলো আধুনিক, প্রয়োজনীয় সরঞ্জামে সজ্জিত, পরিষ্কার এবং সুন্দরভাবে পরিচালিত। ফলে মনোযোগ দিয়ে গবেষণা, নতুন ধারণা নিয়ে কাজ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান আরও উন্নত করার সুযোগ পাচ্ছেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, একজন স্নাতকোত্তর পর্যায়ের গবেষক হিসেবে এমন উন্নত একাডেমিক ও গবেষণা সুবিধা তাঁকে আরও অনুপ্রাণিত ও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।

চীনা সংস্কৃতি সম্পর্কে জানার সুযোগকেও নিজের শিক্ষাজীবনের অন্যতম সুন্দর অভিজ্ঞতা হিসেবে উল্লেখ করেন তূর্য ভট্টাচার্য। ইয়ানশান ইউনিভার্সিটিতে আসার পর তিনি চীনের ঐতিহ্য, জীবনযাপন, খাবার, উৎসব এবং মানুষের পারস্পরিক যোগাযোগের ধরন কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন। চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় তাঁর দৃষ্টিভঙ্গিও আরও বিস্তৃত হয়েছে বলে জানান তিনি।

তূর্য ভট্টাচার্যের মতে, বিদেশে পড়াশোনা শুধু একটি ডিগ্রি অর্জনের বিষয় নয়। এটি নতুন পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া, ভিন্ন সংস্কৃতিকে বোঝা, বিভিন্ন পটভূমির মানুষের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এবং একজন স্বাধীন ও বিশ্বমুখী মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ যাত্রা।

একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হিসেবে ইয়ানশান ইউনিভার্সিটিতে পড়ার সুযোগ পেয়ে তিনি নিজেকে গর্বিত মনে করেন। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাওয়া সুযোগ, সহযোগিতা এবং সুন্দর একাডেমিক পরিবেশের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, প্রতিদিন তিনি নতুন কিছু শিখছেন—শুধু শ্রেণিকক্ষ ও গবেষণার মাধ্যমে নয়, বরং শ্রেণিকক্ষের বাইরের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকেও।

তূর্য ভট্টাচার্য বিশ্বাস করেন, ইয়ানশান ইউনিভার্সিটিতে তাঁর এই শিক্ষাজীবনের যাত্রা ভবিষ্যতে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে। প্রাপ্ত সুযোগগুলোর সর্বোত্তম ব্যবহার করে অর্থবহ গবেষণা, একাডেমিক ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি চীনে অবস্থানকালে বাংলাদেশকে ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করতে চান তিনি।

তিনি বলেন, “আমি ইয়ানশান ইউনিভার্সিটির একজন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হতে পেরে গর্বিত। আমাকে শেখার, গবেষণা করার, একটি নতুন সংস্কৃতিকে জানার এবং ভবিষ্যতের পথে নিজেকে আরও বিকশিত করার সুযোগ দেওয়ার জন্য চীনের প্রতি আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ।”

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews