বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়া শাহ ওমর পাহাড়তলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (smc) কমিটি গঠিত শহীদ আহসান হাবিবের পরিবারের পাশে জুলাই আন্দোলনের নেতৃবৃন্দ, কবর জিয়ারত ও আর্থিক সহায়তা প্রদান চকরিয়ায় বন্যার গ্রাসে পেঁপে বাগান, কৃষকের লাখ লাখ টাকার ক্ষতি স্পেনে ষাঁড় দৌড়ে অংশ নিয়ে বিপত্তিতে ৬০ জন উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশসীমা এড়িয়ে চলতে সতর্কতা জারি মাতামুহুরির পূর্ব বড় ভেওলা ইউনিয়নে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চকরিয়ায় স্কুলের প্রধান শিক্ষককে মারধর করে ৪ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চকরিয়ায় ত্রাণ নিয়ে বন্যার্তদের পাশে ইসলামী আন্দোলন চকরিয়া পৌরসভায় বন্যার্তদের মাঝে বিএনপি নেতা শামীম ও জয়নাল আবেদীনের ত্রাণ বিতরণ চকরিয়ায় ত্রাণ নিয়ে বন্যার্তদের পাশে জামায়াত ইসলামী

লামায় দেড় দশকের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও বিচারহীনতার বলি এক পরিবার: অপহরণ, নির্যাতন, গণধর্ষণ ও মৃত্যুর করুণ অধ্যায়

  • প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৩৬৩ বার পড়া হয়েছে

নাজমুল হুদা, বান্দরবান প্রতিনিধি।।

বান্দরবানের লামা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা সশস্ত্র সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং জাতিগত উত্তেজনার ভয়াবহ চিত্র আবারও সামনে এসেছে এক বাঙালি পরিবারের জীবনের করুণ বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামে বাঙালিদের ভূমি অধিকার ও নিরাপত্তা নিয়ে সোচ্চার হওয়ায় পিসিসিপি (পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ) নেতা গিয়াস মাহমুদ এবং তার পরিবার গত দেড় দশক ধরে ধারাবাহিক নির্যাতনের শিকার।
বর্তমানে গিয়াস মাহমুদ জীবন বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আছেন, তবে নিরাপত্তার কারণে তার অবস্থান পরিবার প্রকাশ করেনি।বংশানুক্রমিক টার্গেট: ২০০৭ সালের নৃশংসতা ঘটনার সূত্রপাত ২০০৭ সালে। অভিযোগ অনুযায়ী, গিয়াস মাহমুদের বাবা আবুল কালাম সামির স্থানীয় সশস্ত্র গোষ্ঠীর চাহিদামতো চাঁদার এক-তৃতীয়াংশ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে অপহরণ করা হয়।
চারদিন ধরে নির্যাতনের পর স্থানীয় মৌজা হেডম্যানের সুপারিশে তাকে মুক্ত করা হলেও, শারীরিক নির্যাতনের ক্ষত সইতে না পেরে তিনি মাত্র ১ মাস ১২ দিনের মাথায় মৃত্যুবরণ করেন।পরিবারটি এ ঘটনায় প্রশাসনের কাছে একাধিকবার অভিযোগ জানালেও কোনো বিচার পায়নি বলে দাবি করেছে।প্রতিবাদ থেকে টার্গেট: ২০২১ সালের ঘটনা বাবার মৃত্যুর পর গিয়াস মাহমুদ বাঙালিদের অধিকার নিয়ে সোচ্চার হন এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদের (পিসিসিপি) লামা উপজেলা শাখার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন।২০২১ সালে তিনি চাঁদাবাজি, ভূমি দখল ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।এরপরই তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর টার্গেটে পরিণত হন।অপহরণ ও নির্মম নির্যাতন পরিবার ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ৩০ আগস্ট ২০২১ তাকে অপহরণ করা হয়।
তিনদিন অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে তাকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। তার পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয় এবং তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।পরবর্তীতে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির মধ্যস্থতায় তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্ত করা হয়।প্রতিশোধ: পরিবারের ওপর হামলা গিয়াস মাহমুদ আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পর তাকে না পেয়ে সন্ত্রাসীরা তার পরিবারের ওপর একাধিকবার হামলা চালায়।অভিযোগ অনুযায়ী:
বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাট গবাদি পশু নিয়ে যাওয়া
পরিবারের সদস্যদের মারধর পরিবারটি একাধিকবার থানায় ও প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাইলেও কোনো কার্যকর নিরাপত্তা পায়নি।পৈশাচিক হামলা: বোনকে গণধর্ষণ ও মৃত্যু পরিস্থিতি চরমে পৌঁছায় যখন সন্ত্রাসীরা পুনরায় বাড়িতে হামলা চালায়।পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী:গিয়াস মাহমুদের মায়ের সামনে তার বোন সাবিনা ইয়াসমিনকে চারজন মিলে গণধর্ষণ করে বসতবাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় মাকে বেধড়ক মারধর করা হয়
গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার বোন কয়েকদিন মৃত্যুর সাথে লড়াই করেন। পরবর্তীতে শারীরিক ও মানসিক ট্রমা সহ্য করতে না পেরে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে পরিবার দাবি করেছে।প্রশাসনের ভূমিকা ও বিচারহীনতা ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ:
প্রতিটি ঘটনার পর থানায় অভিযোগ করা হয়েছে
আদালতেও মামলা করা হয়েছে কিন্তু কোনো কার্যকর তদন্ত বা বিচার হয়নি বরং উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে তারা দাবি করেছেন।স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, দুর্গম এলাকা এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে প্রশাসন অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়।
চলমান সংকট: নিরাপত্তাহীনতা ও পলায়ন
বর্তমানে গিয়াস মাহমুদ জীবন বাঁচাতে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে আছেন। তার পরিবারও চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, “তাকে খুঁজে বের করার জন্য এখনো হুমকি দেওয়া হচ্ছে”, তাই তার অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।উপসংহার লামার এই ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়, বরং পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের নিরাপত্তাহীনতা, চাঁদাবাজি এবং বিচারহীনতার একটি প্রতীকী উদাহরণ।সংশ্লিষ্টদের মতে, টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজন:কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিরপেক্ষ তদন্ত সকল নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিতকরণনয়তো এমন মানবিক বিপর্যয় ভবিষ্যতেও ঘটতে থাকবে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews