সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:২২ অপরাহ্ন

চাকরির প্রলোভনে ৩ শ্রমিক অপহরণ! ৩ লাখ টাকা দিয়েও মেলেনি সন্ধান

  • প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বেশি মজুরির প্রলোভন দেখিয়ে তিন শ্রমিককে টেকনাফে নিয়ে মানবপাচারের উদ্দেশ্যে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের উদ্ধারের দাবিতে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন জহির আহমদ নামে এক ব্যক্তি।

থানায় দেওয়া অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্তরা হলেন—আহমদ উল্লাহ (৪০), মো. ইউনুছ (৪৫) ও আমির হোসেন (৪৮)।

এ ঘটনায় অপহৃতরা হলেন,চকরিয়া উপজেলার বমু-বিলছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড লম্বাছড়া এলাকার মোহাম্মদ ইছহাকের পূত্র লিয়াকত আলী (৩৯) এবং একই এলাকার ফকির মোহাম্মদের পূত্র আবু ছালেক (৪০)।
অন্যদিকে বান্দরবান জেলার গজালিয়া এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাতেমতিলা পাড়ার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের পূত্র নূরু-নবী (২৬)।

অভিযোগে আরও বলা হয়, তারা টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থান করতেন এবং কিছুদিন ধরে গোপনে ক্যাম্পের বাইরে এসে চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় দিনমজুরের কাজ করতেন।

অভিযোগকারী জহির আহমদের দাবি, অভিযুক্তরা স্থানীয়দের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে তাঁর ভাইসহ কয়েকজন শ্রমিককে টেকনাফে দৈনিক বেশি মজুরিতে কাজ দেওয়ার প্রলোভন দেখান।

এতে ভুক্তভোগীরা রাজি হলে গত ১০ জুন ২০২৬ সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে চকরিয়া থানাধীন বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লন্দাছড়া এলাকার চলাচল রাস্তা থেকে তাদের একটি অজ্ঞাতনামা গাড়িতে তুলে নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ভুক্তভোগীদের টেকনাফ উপজেলা এলাকার অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে মানবপাচারকারী চক্রের কাছে হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আটকে রাখা হয়। কয়েকদিন পর ভুক্তভোগীরা মোবাইল ফোনে স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানান।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, গত ১৬ জুন বিকেলে অভিযুক্তদের একজন স্বজনদের ফোন করে ভুক্তভোগীদের মুক্তির জন্য ৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এত টাকা দেওয়া সম্ভব নয় জানালে শেষ পর্যন্ত ৩ লাখ টাকা দিলে তাদের ছেড়ে দেওয়ার কথা বলা হয়।

এরপর গত ১৭ জুন সকালে বিকাশের মাধ্যমে দুটি নম্বরে মোট ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয় বলে অভিযোগকারীর দাবি। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরও ভুক্তভোগীদের মুক্তি দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে অভিযুক্তরা স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন এবং বর্তমানে তাদের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীর দাবি, অভিযুক্তরা একটি মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য এবং অধিক বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে শ্রমিকদের ফুসলিয়ে অপহরণ করে পাচারের উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও ভুক্তভোগীদের সন্ধান না পাওয়ায় তিনি থানায় অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিখোঁজ তিন শ্রমিককে দ্রুত উদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে চকরিয়া থানা পুলিশের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এ ঘটনায় চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, “অপহরণের বিষয়ে একটি অভিযোগ পেয়েছি। তাই তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ”

উল্লেখ্য, কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া এলাকায় মানবপাচার চক্রের তৎপরতা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন অভিযান ও প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews