
দেশে স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় কৃষি সেক্টরে মারাত্মক রকমের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যা কৃষি উৎপাদনসহ খাদ্য নিরাপত্তায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। জমিতে লাগানো আমন ধান,পেঁপে, শসাসহ মৌসুমি ফসল পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেছে। নষ্ট হয়ে গেছে বীজতলাও। আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করে চারা গজিয়ে চাষাবাদ করা আদৌ সম্ভব হবে কি না তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে।কক্সবাজরের চকরিয়ায় মৌসুমে রোপিত পেঁপে, বেগুন, শসা,করলা, কলা, ধান চাষসহ বিভিন্ন ফলন টানা বৃষ্টিতে শতকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।


কৃষক নুরুল আবছার বাদশার পেঁপে বাগান ছবি (ভোরের কণ্ঠ)

পেঁপে ক্ষেত নষ্টের চিত্র
চকরিয়া পৌরসভা ২ নং ওয়ার্ড মৌলভীরচর এলাকার চাষি নুরুল আবছার বাদশা ভোরের কন্ঠকে বলছেন, সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে মৌলভীরচর চাষাবাদের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ফসল মারা গেছে। তার মধ্যে আমার রোপিত ৬ কানি পেঁপে, ২ কানি বেগুন, ২ কানি শসা, ২.৫ কানি তিত করলা, ১.৫ কানি কলা গাছ চাষ করি। সম্প্রতি বন্যার কবলে পড়ে সব তলিয়ে যায়।এতে তার ২০ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।তিনি দুশ্চিন্তায় ভুগছেন।
তিনি আরও জানান, ফলন রোপণের ৮ মাসের মাথায় আমি সব হারিয়ে নি:শ্ব হয়ে গেছি। ফল তোলার সময় হয়েছে মাত্র। সপ্তাহ ব্যবধানে আমার স্বপ্ন পুরো ধ্বংস করে দিয়েছে। চকরিয়ার মধ্যে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আমার। চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে সরকারের কাছে ক্ষতিপূরণ ও সহযোগিতা চেয়েছে।
কৃষক মুজিবুর রহমান বলেন, ১ কানি জমিতে দেড় লক্ষ টাকা খরচ করে আমি টপলেডি জাতের পেঁপের সাড়ে ৫শ চারা লাগিয়েছি। টানা বৃষ্টির কারণে সব চারা নষ্ট হয়ে গেছে।


কৃষক মুজিবুর রহমানের পেঁপে ক্ষেত: ছবি (ভোরের কণ্ঠ)
চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরেৌসী ভোরের কণ্ঠকে জানান, সম্প্রতি চকরিয়া বন্যায় কৃষকের বেশি ক্ষতি হয়েছে। তা উর্ধ্বতম কৃষি দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন তারা। তবে এখনও লিখিতভাবে নির্দেশ দেন নি উর্ধ্বতম কর্মকর্তারা।বরাদ্দ আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়ানো সম্ভব হবে বলে জানান।
শুধু বাদশা ও মুজিব নয়, চকরিয়ার হালকাকারা, লক্ষ্যারচর, কৈয়ারবিলসহ বিভিন্ন এলাকার চাষিদের টানা বৃষ্টিতে কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। চলতি মৌসুমে পেঁপে ও তিত করলা, শসা চাষে বাম্পার ফলন ও দাম ভাল পেলেও সম্প্রতি টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে পানি জমে পেঁপে বাগানসহ ভিন্নি ক্ষেত নষ্ট হয়ে লাখ লাখ টাকা ক্ষতি হচ্ছে। গাছ মরে ঝরে পড়ছে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের পেঁপে ।
এ সব এলাকায় টপলেডি, গ্রীনলেডি, থাইসহ নানা জাতের পেঁপে চাষ হয়েছে। প্রতি কেজি পাকা পেঁপে পাইকারি বাজারে ২৫ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি গাছে ৩ থেকে ৪শ’ টাকা খরচ হলেও ৮শ’ থেকে ১ হাজার টাকার পেঁপে বিক্রির কথা ছিল। যার সবই এখন পচে যাচ্ছে তাই সরকারি সহযোগিতার দাবি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের।