শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পটিয়া থেকে ছিনতাই হওয়া ৩০০ বস্তা চিনি চকরিয়ায় উদ্ধার মাতামুহুরিতে সোনালী অতীত ফুটবল টুর্নামেন্টের জার্সি উন্মোচন ও সাবেক ফুটবলারদের সম্মাননা এবং অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন চকরিয়ায় বাস-পিকআপ মুখোমুখি সংঘর্ষ, চালক ও হেলপার নিহত তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে বিভ্রান্তি, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা অস্ট্রেলিয়াকে বড় লজ্জা উপহার দিল দক্ষিণ আফ্রিকা লামায় সার্ভেয়ার মোঃ আতিকুর রহমান এর বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন কক্সবাজার সৈকতে গোসলে নেমে ৩ পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ ২ চকরিয়ায় প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার বিদায় মহানবমীতে চকরিয়া হরি মন্দির পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক এপেক্স ক্লাব অব রামুর উদ্যোগে স্কুল ও মাদ্রাসার উন্নয়নের জন্য লক্ষাধিক টাকা সহায়তা প্রদান

চকরিয়ায় মাদ্রাসা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের উপর হামলা

  • প্রকাশিত: বুধবার, ৭ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৭৭ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলার আমজাদিয়া রফিকুল উলুম কামিল মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের হামলায় শাহাদত হোসেন নামে একই মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ও সাবেক ছাত্রদল নেতা শাহাদত হোসেনকে হামলা করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে।

আহত শাহাদত হোসেন চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার পরিচালনা কমিটি গঠনের পরথেকে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল।
আহত সাবেক চবি ছাত্রদল নেতা ও সহকারী শিক্ষক শাহাদাতের দাবী অনুযায়ী অবৈধ ভাবে আওয়ামী লীগের দোসরদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল,এই কমিটিতে স্থানীয় জামায়াতের প্রতিনিধিত্ব থাকলেও সরকারি দলের কোন প্রতিনিধিত্ব নেই। এই কমিটির বিভিন্ন পদে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাথে সমন্বয় করে নতুন কমিটির দাবি করেন এর ই ধারাবাহিকতায় গত ০২/০৯/২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১(চকরিয়া-পেকুয়া-মাতামুহুরী) আসনের সাংসদ সালাহউদ্দিন আহমদ এর বরাবরে বর্তমান কমিটি বাতিল ও বিএনপির সমন্বয়ে নতুন কমিটির জন্য আবেদন করেন,মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশ সম্বলিত আবেদনটি ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে জমা দেন। উপচার্য আবেদনটি গুরুত্ব সহকারে গ্রহন করেন।

তার ভাষ্য মতে,তিনি আবেদনটি জমা দিয়ে বের হতে না হতেই, বিশ্ববিদ্যালয় কার্যালযে ঘাপটি মেরে বসে থাকা সাবেক চবি ছাত্রলীগ নেতা ও কাকারা ৭নং ওয়ার্ড়ের আওয়ালীগ নেতা এমইউপি নাছির উদ্দীনের ছোটভাই মামুনের নিকট আত্মীয় প্রয়াত আওয়ামীগ নেতা মাষ্টার আব্বাস উদ্দিনের ছেলে অত্র মাদ্রাসায় গনিত শিক্ষক হিসেবে কর্মরত যাকে গোপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপন নতি পাঠিয়ে দেয়।

তার পরথেকে আহত শিক্ষক শাহাদাতের প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছে। হুমকি-ধমকি ও মানসিক টর্চারে শাহাদাত অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি চিকিৎসার জন্য ঢাকা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের ডাক্তার মোহাম্মদ রুকনুজ্জমান এর তথ্যবধানে প্রায় ১মাস পূর্ন বিশ্রামে চিকিৎসাধীন ছিলেন। উল্লেখ্য যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাদ্রাসা প্রশাসনকে অবহিত করেন।

সুস্থ হয়ে গত ৪ তারিখ কর্মস্থলে যোগদান করে লিখিত চিকিৎসা ছুটি আবেদন পত্র(প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র সহ) সভাপতি ও অধ্যক্ষ বরাবর প্রদান করে। শিক্ষক হিসেবে যথানিয়ম দায়িত্ব পালন করে আসছিন। তার প্রতি পূর্বের হুমকির ধারাবাহিকতায় আজ(৭ অক্টোবর) সকালে আনুমানিক ৯ঃ৩০ মিনিটের সময় তাকে একা পেয়ে হামলাকারী শিক্ষকরা আক্রমণ করলে তিনি আহতে হয়ে পড়েন,স্থানীয় কিছু মানুষ ও অন্যান্য শিক্ষকরা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরন করেন।

হামলায় শাহাদতের শরীরের মাথায় ও ডান হাতে আঘাত লাগে। পরে উপস্থিত লোকজন তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।

তিনি সাংবাদিকদের আরো বলেন অভিযুক্ত শিক্ষক এহেসান চাকরি জন্য প্রয়োজন বলে কাকারা ইউনিয়ন বিএনপির সাথে প্রতারণা করে বিএনপির কর্মী বলে প্রত্যয়ন নেয়,যা মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশের বিপরীতে ব্যবহার করেছে। কাকারা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক দের কাছ থেকে জানতে চাই এই বিষয়ে তারা জানায় এহেসান তার চাকরির জন্য প্রয়োজন বলে প্রত্যয়ন নেয়,কিন্তু সেটা যদি তিনি মন্ত্রী মহোদয়ের সুপারিশের বিপরীতে ব্যবহার করেন তাহলে সেটা কাকারা বিএনপির সাথে প্রতারনার সামিল।

তিনি আরও বলেন,সম্প্রতি শাহাদাত অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে মাদরাসা অধ্যক্ষ- ড.এনায়েমুল হক প্ররোচিত হয়ে তাকে মেডিকেল ছুটি না দিয়ে কূটকৌশলের বশবর্তী হয়ে ওই শিক্ষককে সেপ্টেম্বর /২৬ মাসের কর্তন করে।

অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের কেউ কেউ ঘটনাটি নিয়ে সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।

চকরিয়া পৌর যুবদলের সাধারন সম্পাদক জিয়া উদ্দিন বাবলু পৌর যুবদল নেতা শাহাদাতের উপর হামলার তীব্র নিন্দা ও দুষিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেন।

উল্লেখ্য যে বিগত ৪/৫/২৬ইং তারিখে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে হামলাকারী শিক্ষক আব্দুল লতিফ অপপ্রচার চালালে আহত শিক্ষক শাহাদাত প্রতিবাদ করায় আব্দুল লতিফ এর নেতৃত্বে হামলা চালিয়ে ছিল। যা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।

এ ছাড়াও আহত শিক্ষক শাহাদাত সরকারের বিভিন্ন দপ্ততরে যে সব অভিযোগ গুলো প্রেরনে তারা বেশি ক্ষিপ্ত হয়েছে তা হলো–

১. রসিদহীন অর্থ আদায় ও অফিশিয়াল ফান্ডে জমা না করা: শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন খাতে সংগৃহীত অর্থ মাদ্রাসার অফিশিয়াল ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে এবং কোনো আইনসম্মত রসিদ প্রদান না করে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করছেন।

২. অবৈধ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট পরিচালনা: গভর্নিং বডির সভাপতির অনুমোদন ছাড়াই নিজ স্বার্থান্বেষী মহলকে সাথে নিয়ে ব্যাংক এশিয়া (লক্ষ্যাচর শাখা, হিসাব নং: ২০০৭৯৮২) একটি অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাৎ করছেন।

৩. উপবৃত্তি ও সরকারি অনুদান তছরুপ: শিক্ষার্থীদের অনুকূলে আসা সরকারি উপবৃত্তির ভর্তুকি এবং বিভিন্ন সময়ে অনুমোদিত সরকারি বরাদ্দের টাকা নির্ধারিত বিধিমোতাবেক ব্যবহার না করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
৪. সুযোগ-সুবিধা ও প্রভিডেন্ট ফান্ড বঞ্চিতকরণ: পার্শ্ববর্তী অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধা চালু থাকলেও, এই মাদ্রাসার শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF), ঈদ বোনাস ও অন্যান্য সুবিধা প্রদান না করে আর্থিক তথ্য গোপন রাখছেন।

৫. উন্নয়ন ফান্ড ও ভুয়া বিলের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ: মাদ্রাসার অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে জনসাধারণের কাছ থেকে সংগৃহীত অনুদান মূল ফান্ডে জমা না করা এবং দৈনন্দিন ভুয়া বিল-ভাউচার তৈরির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের অর্থ অপচয় করছেন।

৬. শিক্ষকদের লাঞ্ছনা ও প্রাণনাশের হুমকি: বিগত ২৪/০২/২০২৪ খ্রি. তারিখে অধ্যক্ষের অনৈতিক ও অসৌজন্যমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালে শিক্ষকদের লাঠিপেটা করা হয় এবং দোতলা থেকে ফেলে দেওয়াসহ অশালীন ভাষায় প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করা হয়।

৭. পক্ষপাতিত্ব ও প্রভিডেন্ট ফান্ডে বৈষম্য: প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের মধ্যে কৃত্রিম বিভাজন সৃষ্টি করে নিজ অনুসারী শিক্ষকদের অনৈতিক সুবিধা দিচ্ছেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ২ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর প্রভিডেন্ট ফান্ডের সুযোগ পাওয়ার কথা থাকলেও, নিজ অনুসারী শিক্ষককে যোগদানের পরপরই এ সুযোগ দেওয়া হয়। অথচ জ্যেষ্ঠ ও দীর্ঘ মেয়াদে কর্মরত প্রভাষক ও সহকারী শিক্ষকদের (যেমন: মোঃ আলমগীর, মোঃ শাহাদাৎ হোসেন, মোঃ সোহরাব হোছাইন, মাওলানা নওশাদ ইসলাম) অন্যায্যভাবে এ সুবিধা থেকে বঞ্চিত রাখা হয়েছে।
৮. শ্রেণি কার্যক্রমে যোগ্যতার অবমূল্যায়ন: উচ্চতর ডিগ্রিধারী (এম.এ ও কামিল) অভিজ্ঞ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে নিজ অনুসারী এবং প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের নিয়মবহির্ভূতভাবে উচ্চতর শ্রেণিতে পাঠদানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
৯. পরীক্ষা কেন্দ্র পরিচালনায় অনিয়ম: দাখিল পরীক্ষা পরিচালনায় জ্যেষ্ঠতা ও বিধিমালা চরমভাবে লঙ্ঘন করে নকল সরবরাহের দায়ে ইতিপূর্বে বহিষ্কৃত শিক্ষক ও পছন্দের ব্যক্তিদের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে, যা কেন্দ্র পরিচালনায় চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি করেছে।
১০. শিক্ষকের ওপর শারীরিক হামলা: অধ্যক্ষের নানা অনিয়মের প্রতিবাদ জানালে গত ০৪/০৫/২০২৬ খ্রি. তারিখে সহকারী শিক্ষক মোঃ শাহাদাৎ হোসেনকে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে শারীরিক লাঞ্ছনা করা হয়, যাতে তিনি গুরুতর আহত হন।
১১. প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারি বিধির ব্যত্যয়: প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষকদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে নিয়ম অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের ১০% অংশ জমা দেওয়ার বিধান থাকা সত্ত্বেও অনেককে ফান্ডে যুক্ত করা হয়নি। উপরন্তু যাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে বিগত
২৬ মাসের মধ্যে ১৫ মাসের টাকাই জমা করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, মাদরাসা পরিচালনা কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে যাতে আরও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

এদিকে, মাদরাসার আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের সুযোগ-সুবিধা সংক্রান্ত শাহাদাত হোসেনের উত্থাপিত অভিযোগগুলোরও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews