
জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।।
বান্দরবান লামা উপজেলার সরই ইউনিয়নে মহিলা লেলিয়ে হামলার হুমকি দিয়ে চাষাবাদে বাঁধা। মানছেনা আদালতের নিষেধাজ্ঞা। হামলার ভয়ে জমির মালিক চাষ করাতে পারছে না। দেড় বছর ধরে খিল পড়ে রয়েছে প্রায় ৫ একর জমি। লামা উপজেলার ৩০১ নং সরই মৌজাস্থ আর/৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের মালিক আমিন শরীফ থেকে ১৯৯২ সালে একই এলাকার বাসিন্দা মোহাম্মদ আলী চার একর জমি তার স্ত্রী সামশু নাহার বেগমের নামে ক্রয় করেন। তার কিছুদিন পর আমিন শরীফের পিতা ফকির আহম্মদ থেকে ৩০২ নং হোল্ডিংয়ের আরো আড়াই একর জমি মোহাম্মদ আলীর ছেলে আরমগীর সিকদারের নামে ক্রয় করে নির্বিঘ্নে ভোগ দখলে করতে থাকেন। ক্রয়কৃত সম্পত্তি মা ছেলে দুই জনের নামে পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিক্রয় হস্তান্তর আইনে আর/৮ ও ৩০২ নং হোল্ডিংয়ের মোট সাড়ে ৬ একর জায়গা জেলা প্রশাসকের হুকুমে দখলীয় ক্রেতা আলমগীর সিকদার ও তার মা সামশু নাহার বেগমের নামে, ফকির মোহাম্মদ ও তার ছেলে আমিন শরীফ এর নাম কর্তন করে রেকর্ড সংশোধন পূর্বক নামজারি হয়।খোঁজ নিয়ে জানাযায়, তৎ সময় থেকে জমির চারদিকে ঘেরা-বেড়া দিয়ে গাছগাছালি সৃজন ও বিভিন্ন ফসল উৎপাদন করতে থাকে মোহাম্মদ আলীর পরিবার। সরেজমিন দেখা যায়, মোহাম্মদ আলীর পরিবার কর্তৃক জমিতে দুইটি টিউবয়েল, একটি করাত কল ও মুরগির ফার্ম করার জন্য কিছু অংশে স্থাপনা করেন। বিগত ২০২১ সালে আড়াই একর জমির মালিক আলমগীর সিকদার সন্ত্রাসীদ্বারা নির্মমভাবে খুন হয়। ওই খুনের ঘটনার পরপরই ফকির আহম্মদসহ তার পরিবারের লোকজন নিহত আলমগীর এর জায়গাটি জবর দখলের চেষ্টা করে এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী তান্ডব চালিয়ে ত্রিশ শতাংশ জায়গা দখল করে নেয়। আমিন শরীফ গং সন্ত্রাসী আক্রমন চালিয়ে বাকি আরো প্রায় ২ একর জায়গায় চাষাবাদ কার্যক্রম করতে দিচ্ছে না। এছাড়া সমিল স্থাপনার একাংশের টিন খুলে নিয়ে যায়।এ বিষয় জমির মালিক নিহত আলমগীর সিকদারের পরিবার বিজ্ঞ আদালতে চিরস্থায়ী নিষেধাজ্ঞাসহ প্রতিকার চেয়ে মামলা করেন। মামলায় ফকির আহম্মদ, তার ছেলে আমিন শরীফসহ ৮জনকে আসামী করা হয়। বিজ্ঞ সিনিয়র জজ আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী করেন, কিন্তু আসামীগন আদালতের নিষেধাজ্ঞাকে তোয়াক্কা করছেন না। অপরদিকে বিগত ২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী মব সৃস্টি করে আমিন শরীফ পরিবারের মেয়ে-ছেলেসহ নতুন করে সহিংসতা ঘটানোর ছক আঁকেন। সেই ধারাবাহিকতায় সামশু নাহার বেগমের নামীয় ভোগ দখলীয় চার একর জায়গাও দখলে নেয়ার পায়তারা করে। আমিন শরীফ ও তার পিতা ফকির আহম্মদগং জমিতে চাষাবাদ ও অন্যান্য স্বাভাবিক কার্যক্রমে মালিক পক্ষকে বাঁধা দেয়।
স্থানীয় চাষারা জানান, আমিন শরীফের পরিবার কর্তৃক সঙ্ঘাত সৃষ্টির পরিকল্পনা করছেন। এইসব ঘটনায় গত ১৪ জুলাই/২৫ তারিখে আমিন শরীফসহ ৮জনকে বিবাদী করে বান্দরবান সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে দেওয়ানী কার্যবিধি আইনের ৩৯ অর্ডার ১/২ ও ১৫১ ধারা রুল মতে আরো একটি মামলা দায়ের করেন মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোঃ দস্তগীর সিকদার মানিক। মামলায় ১৮ জুন/২৫ এর আদেশে বিজ্ঞ জজ আদালত অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারী এবং আদেশ অনুসারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য লামা থানা অফিসার ইনচার্জকে অনুলিপি দেয়া হয় মর্মে আদেশে উল্লেখ আছে। কিন্তু বিজ্ঞ আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও লোকাল পুলিশের তোয়াক্কা করছে না আমিন শরীফ গং।এই জবর দখল বিষয়ে সরেজমিন অনুসন্ধানকালে এক গভীর ষড়যন্ত্রের ঈঙ্গিত পাওয়া গেছে। স্থানীয় সূত্র ও একাধিক বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানাযায়, বিক্রি হস্তান্তর পরবর্তী বহু বছর পর বিক্রেতা কর্তৃক জমি দখল করার পেছনে ত্রিমুখী ইন্ধন রয়েছে। এ ইন্ধনকারীদের মধ্যে আলমগীর হত্যার আসামী পক্ষের ইন্ধনও রয়েছে। আরেকটি পক্ষ স্থানীয় নেতৃত্বের পথ পরিস্কার করতে মোহাম্মদ আলী পরিবারকে ঘায়েল করার অপচেষ্টা করছে। অপর আরেকটি পক্ষও অন্য একটি জমির সীমানা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এসব ঝামেলা করাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মোহাম্মদ আলী সরই ইউনিয়নে টানা কয়েক দফা নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন। যার কারণে তার ও তার সন্তানদের ক্ষতি সাধন ও জায়গা জমি জবর দখল, মিথ্যা রটনা রটিয়ে নানানভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।মোহাম্মদ আলীর ছেলে মামলার বাদী দস্তগীর মানিক সিকদার জানান, ‘ফকির আহম্মদ ও তার ছেলে আমিন শরীফসহ পরিবারের অন্য নারী সদস্যদেরকে ৩য় পক্ষ উস্কে দিচ্ছে। তড়যন্ত্রকারীরা আমি ও আমাদের পরিবারের সদস্যদের উপর হামলা, মিথ্যা মামলা, জমি দখল ইত্যাদি ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।’এ বিষয়ে সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী দুঃখ করে বলেন, ‘সরই ইউনিয়নের পাহাড়ি বাঙালি আমাকে পরপর চেয়ারম্যান নির্বাচিত করে সুদীর্ঘকাল তাদের সেবা করার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সুখে দুঃখে ইউনিয়নের প্রতিটি পরিবারের পাশে ছিলাম এখনো আছি। কারো ক্ষতি করি নাই। গত ২০২১ সালে আমার বড় ছেলে আলমগীর সিকদারকে একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপ নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। আমার আর একটি ছেলে পরিবারের সব কিছু দেখা শুনা করছে; তাকে নিয়েও ভয়ঙ্কর ষড়যন্ত্র চলছে। ষড়যন্ত্রকারীরা আইন কানুনের তোয়াক্কা করেন না।’ তিঁনি স্থানীয় প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনি সহায়তা কামণা করেন। এ বিষয়ে আমিন শরীফ গংয়ের সাথে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।আমিন শরীফরা জমি বিক্রি করে বহু বছ পর মব সৃষ্টি করে জবর দখলের পায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এ ঘটনার গ্রামীণ ক্ষমতার দ্বন্দ্ব, প্রতিহিংসা এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি। আইনগত ব্যবস্থা চলমান থাকলেও ক্ষতিগ্রস্ত মোহাম্মদ আলীর পরিবারের আইনগত অধিকার ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিষয়টি সর্ব মহল নজরে আনা দরকার।