
চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নে এক প্রবাসী পরিবারের উপর কয়েক দফা হামলা ও লটুপাটের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান এ হামলা ও লুটপাটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন প্রবাসী পরিবার। হামলায় গুরুতর আহত হন দুইব্যক্তি। ওইসময় প্রবাসীর নির্মাণাধীন দালানের পিলার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে। এতে তাদের অন্তত ১৫-১৬ লাখ টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার বাদি হয়ে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম সহ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে চকরিয়া উপজেলা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন।
শনিবার (২৩ মে) দুপুর দেড়টার দিকে চকরিয়া পৌরশহরের এক রেস্টুরেন্ট সংবাদ সম্মেলনে মাধ্যমে এমন অভিযোগ করেন প্রবাসী পরিবারটি।
চকরিয়া উপজেলার বিএমচর ইউনিয়নের বেতুয়ারকুল এলাকার বাসিন্দা নুরুল হোসাইন সওদাগরের পুত্র দুবাই প্রবাসী মাহাদুল হাসান আরফাত সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে জানান, তার পিতা নুরুল হোসাইন সওদাগর ১৯৯৩ ও ৯৫ সালে সরকারি রেজিস্ট্রারমূলে ১২শতক জায়গা ক্রয় করেন। গত ৩০ বছর ধরে ক্রয়কৃত জায়গাতে শান্তিপূর্নভাবে ভোগ দখল করে আসছি। বিগত কয়েক বছর ধরে স্থানীয় জালাল উদ্দিনের পুত্র ভূমিদস্যু শহীদুল ইসলাম তার সাঙ্গপাঙ্গরা ভূয়া কাগজপত্র সৃজন করে জায়গা দখলের চেষ্ঠা করে। তাদের জায়গাতে বাড়ি নির্মাণের কাজ চলাকালিন সময়ে বিভিন্নভাবে বাধা দিচ্ছেন। একপর্যায়ে চক্রটি জায়গা দখল নিতে ব্যর্থ হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেন।
তিনি আরও জানান, গত ১৬ মে সকাল দশটার বাড়ির কাজ চলছিলো। ওইসময় ভূমিদস্যু শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে একদল দখলবাজ নির্মাণ কাজে বাধা দেন। পরে তারা ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করে। এসময় ভূমিদস্যুদের বাধা দিলে তার উপর হামলা চালায়। এতে মারাত্মক আহত হই। হামলা লুটপাটে অন্তত ১৫-১৬ লাখ টাকা ক্ষতি হয়েছে। এঘটনায় স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গার আলমের কাছে একাধিকবার অভিযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি শালিশ বিচার না করে উল্টো তাদের জায়গা দখল নিতে ইন্ধন দিচ্ছেন। ভূমিদস্যু শহীদুল ইসলাম সম্পর্কে ইউপি চেয়ারম্যানের ভাগিনা হয়। এ সুযোগে তিনি ব্যাপরোয়া হয়ে উঠেছেন।
দুবাই প্রবাসী আরফাতের মা সেতারা বেগম জানান, দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলীয় জায়গা দখল নিতে ভূমিদস্যুরা নানাভাবে হয়রানী করছেন। নির্মাণ কাজে বাধা দিচ্ছেন। গত তিন দফা হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে তারা। গত ১৬ মে ও ২১ মে শহীদুল ইসলামের নেতৃত্বে হামলা ও লুটপাট চালিয়েছে। এঘটনায় ৯৯৯ ফোন করলে এএসআই আলাউদ্দিন ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করেন। তিনি ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গত ২৩ মে গভীর রাতে ইউপি চেয়ারম্যানের নির্দেশে পিলারের রড ও নির্মাণ কাজের মালামাল ধ্বংস করতে তিনটি ড্রাম ভর্তি রাসায়নিক দ্রব্য নিয়ে আসে। বিষয়টি জানতে পারলে স্থানীয় এলাকাবাসির সহায়তা এগিয়ে আসলে ভূমিদস্যুরা পালিয়ে যায়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশের উপস্থিতিতে রাসায়নিক দ্রব্য গুলো উদ্ধার করা হয়। এঘটনায় গত ২২ মে বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমসহ ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে চকরিয়া উপজেলা জুড়িসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে গত কয়েকদিন ধরে ভূমিদস্যুরা নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। তাদের অব্যাহত হুমকির কারণে এলাকায় যেতে সাহস পাচ্ছে না। মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে
আবেদন করেছেন প্রবাসী পরিবারটি। ##