সাপের কামড় মানেই এক রুদ্ধশ্বাস লড়াই। একদিকে বিষে নীল শরীর, অন্যদিকে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর তাগিদ। হাসপাতাল দূরে হলে মৃত্যু প্রায় অবধারিত। এই বাস্তবতা সত্ত্বেও দেশের ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থাকে না সাপের কামড়ের প্রধান ওষুধ ‘অ্যান্টিভেনম’। বাধ্য হয়ে সাপে কাটা রোগী নিয়ে স্বজনদের ছুটতে হয় জেলা সদর বা বিভাগীয় শহরের হাসপাতালে। এতে পথেই মৃত্যু হয় অনেক রোগীর।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত আনুমানিক ১ টার দিকে চকরিয়া কৈয়ারবিল ইউনিয়নের হাসিমারকাটা এলাকার পিতা; মৃত ফেরদৌস আহেমেদ এর পুত্র ফরহাদ বিষাক্ত সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে পড়লে। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ছোবলকারী সাপসহ নিয়ে আসেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: জায়নুল আবেদীন ও তার সহকারী ডাক্তারদের নিয়ে আহত ফরহাদকে চিকিৎসা দিতে সক্ষম হন। ডাক্তারদের উন্নত চিকিৎসা ও সেবায় আহত ফরহাদ দ্রুত আরোগ্য লাভ করেন।ভুক্তভোগী পরিবার চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সকল ডাক্তারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার জায়নুল আবেদীন ভোরের কণ্ঠকে জানান, সাপের কামড়ের ক্ষেত্রে দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি। সময়মতো চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যুঝুঁকি বেড়ে যায়।হাসপাতালে আসার পর জরুরি বিভাগে ভর্তির কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর শরীরে সাপের বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দেয়।রোগীর অবস্থা বুঝতে পেরে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে শক্তিশালী একটা টিম দ্রুত চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করে। এক মুহূর্তও দেরি না করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পাশাপাশি দ্রুত Antivenom (এন্টিভেনম-বিষ নিষ্ক্রিয় করণের ঔষধ) প্রয়োগ করা হয়।
চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের দ্রুত সিদ্ধান্ত, সমন্বিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক চিকিৎসাসেবায় তিনি সুস্থ হয়ে উঠেন।