
চকরিয়া(কক্সবাজার) প্রতিনিধি।।
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পৈত্রিক সম্পত্তিভুক্ত একটি পুকুর জোরপূর্বক দখল ও মাছ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আদালতের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সংঘবদ্ধ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার।এ ঘটনায় ভুক্তভোগী হাফেজ উদ্দিন (৩৩) চকরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে— জাহাঙ্গীর আলম (৫০) পিতা গোলাম ছোবহান, জুবেদা বেগম (৪০) স্বামী জাহাঙ্গীর আলম, নাজেম উদ্দিন (৪০) পিতা জাকের আধামণ, বদিউল আলম (৫০) পিতা জাকের আহামদ, আবু তৈয়ব (৩৪) পিতা জাকের আহামদ, মনছুর আলম (৪৫) পিতা জাকের আহামদসহ আরও ৪/৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে। অভিযুক্তদের সকলের বাড়ি চকরিয়া উপজেলার বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের পূর্ব পাড়া এলাকায়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বমু বিলছড়ি ইউনিয়নের বিলছড়ি মৌজার বিএস ৯৮ ও ৭৫ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বিএস ৮৭৭ ও ৮৮১ দাগে অবস্থিত প্রায় ২৯ শতক আয়তনের একটি পুকুর ও বসতভিটা বাদীপক্ষের পৈত্রিক ওয়ারিশী সম্পত্তি। সম্পত্তিটি এখনো বণ্টননামা না হলেও তা বাদীপক্ষের পিতা মরহুম কামাল উদ্দিনের নামে রেজিস্টার্ড দলিল, পিতামহ মৃত হাজী হাফেজ আহামদের নামে বিএস রেকর্ড এবং একটি এওয়াজনামা দলিলে চূড়ান্তভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারটি প্রায় ৬০–৭০ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে উক্ত সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছে।ভুক্তভোগী হাফেজ উদ্দিন অভিযোগে উল্লেখ করেন, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে উক্ত পুকুরটি দখলের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল। তারা বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দিয়ে মাছ লুট ও জোরপূর্বক দখলের পরিকল্পনা করে এবং বাধা দিলে মারধর ও প্রাণনাশের ভয় দেখায়। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সালিশ-বিচার হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে আগ্রাসী তৎপরতা অব্যাহত রাখে।পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর ছোট ভাই আবদুল্লাহ আল-মামুন সহকারী কমিশনার (ভূমি), চকরিয়া আদালতে রিভিউ(নামজারি) মিচ মামলা নং-৩৫৭/২০২৫-২৬ দায়ের করেন। দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত উক্ত পুকুর থেকে বিবাদী পক্ষের মাছ আহরণ ও জোরপূর্বক দখলের ওপর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা জারি করেন এবং এলাকায় শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ প্রদান করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ ইং সকাল আনুমানিক ৬টা ৩০ মিনিটে অভিযুক্তরা সংঘবদ্ধভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পুকুর এলাকায় প্রবেশ করে। তাদের হাতে ধারালো দা, লোহার রড, হাতুড়ি, লাঠি ও সোটা ছিল। এরপর তারা জোরপূর্বক পুকুরে জাকি জাল ফেলে মাছ ধরতে শুরু করে এবং বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা মূল্যের মাছ লুট করে নিয়ে যায়।ঘটনাস্থলে উপস্থিত ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মেহের পারভিন (৫০) বাধা দিতে গেলে অভিযুক্তরা তাকে মারধরের উদ্দেশ্যে তেড়ে আসে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। প্রাণনাশের আশঙ্কায় পরিবারটি প্রতিরোধ গড়ে তুলতে না পেরে আতঙ্কিত অবস্থায় থাকে।ঘটনার পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীকে অবহিত করে আপোষ-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত পক্ষ কোনো সমঝোতায় আসেনি। ফলে ভুক্তভোগী পরিবার বাধ্য হয়ে বিলম্বে চকরিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে।ভুক্তভোগী হাফেজ উদ্দিন বলেন,
“আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। অভিযুক্তরা আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মাছ লুট করেছে। আমাদের কাছে বৈধ দলিল, বিএস রেকর্ড, আদালতের আদেশ ও প্রত্যক্ষ সাক্ষী রয়েছে। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে।চকরিয়া থানার একটি সূত্র জানায়, অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এদিকে ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, পরিবারের সদস্য মেহের পারভিন (৫০) বর্তমানে নিজ বাড়িতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। অভিযুক্তরা যে কোনো সময় পুনরায় হামলা চালাতে পারে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা এবং পুকুর ও বসতভিটা এলাকায় স্থায়ী শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন।