
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক কোরবানি ঈদের সময় অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা দেওয়া ইলিশিয়া গরু বাজারটি চুরি করে পুনরায় চালু করেছে কতিপয় একটি চক্র। প্রশাসনের আদেশ উপেক্ষা করে গরু বাজার বসিয়ে বাণিজ্য চালানোর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করেছে চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।
এসময় নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট রুপায়ন দেব বাজারে উপস্থিত হয়ে অভিযান চালিয়ে চুরি করে বসানো গরু বাজারটি উচ্ছেদ করে দিয়েছেন। অভিযানের সময় বাজার অফিস থেকে বেশকিছু হাসিল আদায়ের রশিদ বই জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি সেখানে গরু বাজার না বসাতে সর্তকতা হিসেবে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুপায়ন দেব। তিনি বলেন, মাতামুহুরী উপজেলার পশ্চিম বড়ভেওলা ইউনিয়নের ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে মাঠটি কোরবানি ঈদের সময় চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন অস্থায়ী কোরবানি পশুর হাট হিসেবে ইজারা দেন। কোরবানি ঈদের পর বাজারটি আর ইজারার আওতায় নেই।
কিন্তু স্থানীয় কতিপয় একটি মহল চকরিয়া উপজেলা প্রশাসনের ইজারা আদেশ অমান্য করে বৃহস্পতিবার জোরপূর্বক ভাবে সেখানে অবৈধভাবে গরু বাজার বসিয়ে বাণিজ্য চালাতে মেতে উঠে।
রুপায়ন দেব বলেন, বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন দেলোয়ার জানতে পেরে সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য আমাকে নির্দেশ দেন। এরই প্রেক্ষিতে সেখানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে বসানো গরু বাজারটি উচ্ছেদ করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় লোকজন জানান, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মুজিবুল হক কোরবানি ঈদের সময় ইলিশিয়া গরু বাজারটি অস্থায়ী ভিত্তিতে ইজারা পান। কিন্তু কোরবানি ঈদ শেষ হলেও আরও বেশকিছু লোক জড়ো হয়ে প্রশাসনের ইজারা আদেশ অমান্য করে চুরি করে সেখানে গরু বাজারটি চালু করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, গরু বাজারটি ইলিশিয়া জমিলা বেগম উচ্চ বিদ্যালয় ও ইলিশিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসানো হচ্ছে। ঈদের ছুটি শেষে কয়েকদিনের মধ্যে বিদ্যালয় দুটিতে পাঠদান শুরু হবে। এ অবস্থায় স্কুল মাঠ অবৈধ গরু বাজার বসানো হলে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মক ব্যহৃত হবার আশঙ্কা রয়েছে। ##