
কক্সবাজারের চকরিয়ায় পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে উচ্ছেদের হুমকি, হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।
এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টায় চকরিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের নামার চিরিংগা চেয়ারম্যানপাড়া এলাকার মরহুম মঈনুদ্দিন চৌধুরী পুত্র ফরহাদ চৌধুরী সাংবাদিক সম্মেলন করেন ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, বাবার পৈতৃক সম্পত্তি দীর্ঘদিন ধরে চাচা আবদুল্লাহ দেখাশোনা করতেন। অন্যদিকে, জমিসংক্রান্ত মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলাম। গত বছরের নভেম্বর মাসে বাড়িতে অনুষ্ঠিত এক পারিবারিক বৈঠকে ফুফি, ফুফাতো ভাই, চাচা ও চাচিসহ পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে জমি বিক্রি ও মামলা পরিচালনাসংক্রান্ত হিসাব-নিকাশ নিয়ে আলোচনা হয়। ওই বৈঠকে চাচা আবদুল্লাহর কাছে তাঁদের সাড়ে ১৩ লাখ টাকা পাওনা রয়েছে বলে হিসাব নির্ধারিত হয়। এর মধ্যে গত মার্চের মধ্যে চার লাখ টাকা পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, ওই দিন থেকে তাঁদের বাবার পৈতৃক সম্পত্তি ছোট ভাই ফরহাদ চৌধুরী দেখাশোনা করবেন এবং সম্পত্তি থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে মামলা পরিচালনা করবেন।
আরও বলেন, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এক টাকাও পরিশোধ করা হয়নি। বরং তাঁদের বসতভিটার বেশ কিছু গাছ কেটে নিয়ে যান চাচা আবদুল্লাহ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হন। এর জের ধরে গত ২৫ অক্টোবর জমিতে চাচা আবদুল্লাহ ও চাচির নেতৃত্বে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয় বলে জানান।
হামলার খবর পেয়ে তাঁর ভাই তৌহিদ চৌধুরী ঘটনাস্থলে গেলে তার ওপরও হামলা চালানো হয়। এ সময় তাঁর ভাই ফরহাদ চৌধুরী চাপাতি আঘাতে গুরুতর আহত হন। পরে আহত অবস্থায় তাঁরা চিকিৎসাধীন থাকাকালে চাচা-চাচি ও ফুফিরা বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁদের বিরুদ্ধে মিথ্যা প্রচারণা চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁদের ওপর হামলার ঘটনার পরও প্রতিপক্ষের লোকজন ক্ষান্ত হননি। এখনো মুঠোফোনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তাঁদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ বিষয়ে একাধিকবার থানায় অভিযোগ করেও তাঁরা প্রত্যাশিত নিরাপত্তা পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন তিনি।
পরিবারের সদস্যরা বলেন, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে হামলা ও হুমকির ঘটনায় তাঁরা চরম উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এনিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোন সময় আবারও হামলার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চকরিয়া থানা প্রশাসন ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।###