সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
‘তমার জায়গায় পুরুষ অভিনেতা থাকলে বড় ভাই বলে তেল দিতেন’ মন্ত্রিত্ব ছাড়ার পর প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হলেন জহির উদ্দিন স্বপন চকরিয়ায় পুলিশের বিশেষ অভিযান, দেশীয় অস্ত্রসহ আটক ১ চকরিয়ায় বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে ট্রাকে কেড়ে নিলো তানহার প্রাণ বান্দরবান জেলা পরিষদের অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ গঠন চেয়ারম্যান মাম্যাচিং প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ কুতুবজোমে লাইসেন্সবিহীন ৬ তেল বিক্রয় প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট, সিলগালা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে আপডেট নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী চকরিয়া থানা পুলিশের উদ্যোগে মাদকবিরোধী র‍্যালী ও সচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

চকরিয়ায় নিঃসন্তান বৃদ্ধের শেষ সম্বল দুই গরু চুরি- এক চোখ হারানো নাতনীর চিকিৎসার স্বপ্ন ভেঙে কান্নায় নিঃস্ব দম্পতি

  • প্রকাশিত: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • ৩৩৮ বার পড়া হয়েছে

 

মো. কামাল উদ্দিন, নিজস্ব প্রতিবেদক:
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের হারবাং স্টেশনস্থ উত্তর নোনাছড়িপাড়া এলাকায় নিঃসন্তান ও অসহায় বৃদ্ধ আনোয়ার হোসেনের জীবনের শেষ অবলম্বন দুইটি গরু চুরি হয়ে যাওয়ার পর যেন থমকে গেছে একটি পরিবারের সমস্ত আশা।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, ৫ ফেব্রুয়ারি গভীর রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন একটি ঘর থেকে নিঃশব্দে গরু দুটি নিয়ে যায় অজ্ঞাত চোরের দল। গরু নিয়ে যাচ্ছে এমন শব্দ হলে বাহিরে বের হয়ে গোয়ালঘর ফাঁকা দেখেই স্তব্ধ হয়ে যান আনোয়ার হোসেন। মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি ও তার স্ত্রী।

আনোয়ার হোসেনের নিজের কোনো সন্তান নেই। নিঃসন্তান জীবনের শূন্যতা পূরণ করতে তিনি একসময় একটি কন্যা শিশুকে দত্তক নিয়ে স্নেহ-মমতায় বড় করেন এবং সময়মতো তার বিয়ে দেন। কিন্তু সেই সুখ বেশিদিন টেকেনি। বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দত্তক মেয়ের স্বামী। তখন থেকেই দুঃখ আর সংগ্রাম নিত্যসঙ্গী হয়ে ওঠে পরিবারটির।

স্বামীহারা সেই দত্তক কন্যা গার্মেন্টসে চাকরি করে কোনোমতে সংসার চালালেও তার দুইটি কন্যা সন্তানকে লালন-পালনের দায়িত্ব এসে পড়ে এই বৃদ্ধ দম্পতির কাঁধে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়া শরীর নিয়ে তারা নাতনীদের আগলে রেখেছিলেন বুকভরা ভালোবাসায়।

কিন্তু দুর্ভাগ্য যেন পিছু ছাড়েনি। দুই নাতনীর একজন কিছুদিন আগে গুরুতর আঘাতে একটি চোখ নষ্ট হওয়ার পথে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, চোখটি বাঁচাতে দ্রুত চিকিৎসা জরুরি। সেই চিকিৎসার খরচ জোগাতেই আনোয়ার হোসেন তার জীবনের শেষ সম্বল দুইটি গরু বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, গরু দুইটাই ছিল আমার শেষ ভরসা। নাতনীর চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম। এখন আল্লাহ ছাড়া আমাদের আর কেউ নেই।

পাশেই বসে থাকা তার স্ত্রী বুক ফাটা আর্তনাদে চোখের জল মুছতে মুছতে বলেন, আমরা তো কিছু চাইনি, শুধু বাচ্চাটার চোখটা বাঁচাতে চেয়েছিলাম।
এলাকাবাসী জানান, হারবাংসহ চকরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে গরু চুরির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। তারা দ্রুত চোরদের শনাক্ত করে গরু উদ্ধারের পাশাপাশি এই নিঃস্ব পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

এই বৃদ্ধ দম্পতির কান্না আজ শুধু তাদের একার নয়, এ যেন মানবতার কাছে এক নীরব আর্তনাদ।

ভোরের কণ্ঠ / কউ

আরো সংবাদ পড়ুন
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত -২০২৫, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ।
Theme Customized By BreakingNews