
জাহিদ হাসান,বান্দরবান প্রতিনিধি।
বান্দরবানের লামা পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম রাজবাড়ী এলাকায় জমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে দিল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের হয়রানি ও জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। সর্বশেষ একটি পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে লামা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নতুন করে অভিযোগ দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, দিলাল উদ্দিন, তাঁর দুই ছেলে মো. তুহিন ও মো. শাহিনসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির অংশ তারা প্রায় ৪০ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, দিল মোহাম্মদ তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছেন। এ ছাড়া জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে এলাকায় আরও বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন।পরিবারটির সদস্যদের ভাষ্য, তাঁদের মোট জমির পরিমাণ প্রায় তিন একর। এর মধ্যে প্রায় দুই একর তাঁদের দখলে রয়েছে। পরিবারের এক সদস্যের নামে ২৭ শতক জমি নামজারি রয়েছে বলেও তাঁরা দাবি করেন। এর মধ্যে ২০ শতক তাঁদের দখলে থাকলেও সাত শতক বর্তমানে দখলের বাইরে। তাঁদের অভিযোগ, ওই জমির ১০ শতক নিয়ে দিল মোহাম্মদ মামলা করেছেন।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দিল মোহাম্মদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। মামলা ও প্রশাসনিক অভিযোগের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও তাঁদের দাবি। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।স্থানীয়দের আরও দাবি, ব্যক্তি মালিকানাধীন জমির পাশাপাশি কবরস্থানের জায়গা নিয়েও অতীতে বিরোধের ঘটনা ঘটেছে। একটি ভূমিহীন পরিবারের বিরুদ্ধেও মামলা করে হয়রানি করার অভিযোগ রয়েছে। ২০২৪ সাল থেকে তাঁর বিরুদ্ধে জমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক সংবাদ প্রকাশ করেছেন বলেও স্থানীয়রা দাবি করেন।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা বলেন, দীর্ঘদিনের ভোগদখল, নামজারি ও মালিকানার বিষয় যথাযথভাবে যাচাই না করে মামলা ও অভিযোগের মাধ্যমে তাঁদের হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁরা জমির দলিল, খতিয়ান, নামজারি, দখলসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি নথি যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে দিল মোহাম্মদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।স্থানীয়দের দাবি, পশ্চিম রাজবাড়ী এলাকার দীর্ঘদিনের জমি বিরোধের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি স্পষ্ট করা হোক। একই সঙ্গে মামলা ও অভিযোগের মাধ্যমে কোনো পক্ষ যাতে অযথা হয়রানি বা চাপের শিকার না হয়, সে বিষয়েও প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।